পৃথিবী জুড়ে বাড়ছে যুদ্ধ।বাড়ছে অস্ত্র ব্যবসা। এ ব্যবসায় কখনো মন্দা চলে না। হতে দেওয়াই হবে না। ঋণস্বীকার কয়েকশো রাষ্ট্রনেতা। তা যুদ্ধের কথা উঠলেই ভয়ঙ্কর অস্ত্রের তালিকায় প্রথমেই আসে মূলত পরমাণু বোমার নাম। কিন্তু ধ্বংসক্ষমতার বিচারে তার থেকেও কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে হাইড্রোজেন বোমা। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে ‘থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা’। প্রচলিত পরমাণু বোমার তুলনায় অনেক বেশি শক্তি উৎপন্ন করতে পারে এই মারণাস্ত্র। পরমাণু বোমার ক্ষেত্রে মূল ধ্বংসাত্বক ভূমিকা নেয় ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’। এই পদ্ধতিতে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো ভারী পরমাণুর কেন্দ্রগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। বিপুল শক্তি বেরিয়ে আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই প্রযুক্তির ভয়াবহ পরিণতি দেখেছিল বিশ্ব। ১৯৪৫ সালে আমেরিকার ছোড়া ‘লিটল বয়’ এবং ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমায় ধ্বংস হয়ে যায় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর। প্রাণ হারান বিপুল সংখ্যক জনগণ। হাইড্রোজেন বোমার পদ্ধতি কিছুটা পৃথক। এখানে ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন’ অর্থাৎ পরমাণুর কেন্দ্রকে সূক্ষ্মভাবে জুড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। হাইড্রোজেনের বিশেষ আইসোটোপ একত্রিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করার সময় বিপুল শক্তি নির্গত হয়। আর সেই শক্তিই এই অস্ত্রের ভয়াবহ ক্ষমতার মূল ভরকেন্দ্র। তবে ফিউশন শুরু করার জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা। সেই তাপ তৈরি করতে হাইড্রোজেন বোমার ভিতরে একটি পরমাণু বোমার জোরালো বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হয়।
অর্থাৎ, একটি ছোট পরমাণু বিস্ফোরণই মূল ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে। এই কারণেই হাইড্রোজেন বোমার শক্তি সাধারণ পরমাণু বোমার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরীক্ষিত ‘জার বোম্বা’। প্রায় ৫০ মেগাটন শক্তির এই বিস্ফোরণ এখনও পর্যন্ত মানব ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণগুলির একটি। এর ক্ষমতা হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার তুলনায় কয়েক হাজার গুণ অধিক ছিল। পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু হাইড্রোজেন বোমার আবির্ভাব সেই ধ্বংসক্ষমতাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলেছে। তাই সামরিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এটি শুধু শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবেই নয়, মানবসভ্যতার জন্য অত্যন্ত বড় বিপদের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। আর মানবজাতি ধ্বংসাত্মক, অস্ত্র লেনদেনের ভাঁজে শানিয়ে নেয় একে অপরকে। মাথার উপর বসে নিউক্লিয়ার ব্যবহারকারী 'বিগ বস' নজর রাখে আর এনএফইউ সই করায়। তারপর মুচকি হেসে আঘাত হানে নতুন কোনো দেশে।