Calcutta Television Network

বাদুড়-বৃত্তান্ত

বাদুড়-বৃত্তান্ত
29 September 2026 03:04:01 pm

রাতের অন্ধকারেই সক্রিয় থাকে না পাখি, না জন্তু এই বিচিত্র জীব। দিনের আলো এড়িয়ে নির্জন, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় আশ্রয় খুঁজে নেয় দিব্যি। পৃথিবীতে উড়তে সক্ষম মেরুদণ্ডী প্রাণীদের যে কয়েকটি বংশধারার অস্তিত্ব আজ অবধি পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বাদুড়। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি রয়েছে। কিন্তু ঠিক কবে তাদের জন্ম হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজ অবধি স্পষ্ট ছিল না। নতুন এক গবেষণায় সেই রহস্যের অনেকটাই সমাধান সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, ডাইনোসর নিশ্চিহ্ন হওয়ার পর খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীতে বাদুড় নামক এই উড়ন্ত প্রাণীটির আবির্ভাব ঘটে। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় ডাইনোসর। তার কয়েক লক্ষ বছর পর, আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগে বাদুড়ের উদ্ভব হয়েছিল বলে মনে করছেন আজকের বিজ্ঞানীরা। এত দিন ধারণা ছিল, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া কিংবা আফ্রিকার কোনও অঞ্চল থেকেই হয়তো বাদুড়ের উড়ানের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপেই প্রথম বাদুড়ের দর্শন মেলে। পরে সেখান থেকে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই প্রাণী। বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই বাদুড়ের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে। বাদুড়ের বিবর্তনের ইতিহাস খুঁজে বের করা অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ প্রাচীন বাদুড়ের জীবাশ্মের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এখনও পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরনো বাদুড়ের জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ৫ কোটি ২০ লক্ষ বছর। আমেরিকায় পাওয়া ওই জীবাশ্মটি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় আধুনিক বাদুড়ের সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১০৩টি প্রজাতির বাদুড়ের জিনগত তথ্য এবং ৪৪টি জীবাশ্ম নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ডুজ় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোঞ্জা ভার্নেস, ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের অধ্যাপক এমা টিলিং এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষক আরিয়াদনা মোরালেসের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। গত বুধবার গবেষণাটি  ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, বাদুড়ের উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতার পাশাপাশি শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে আশপাশের বস্তু চেনার ক্ষমতা বা ইকোলোকেশনও বিবর্তনের একেবারে প্রথম দিকেই তৈরি হয়েছিল। এই ক্ষমতার সাহায্যে অন্ধকারেও পথ চিনতে এবং খাবার খুঁজে নিতে দক্ষ তারা। ফলে দিনের বেলা সক্রিয় পাখিদের সঙ্গে কখনোই খাবারের জন্য প্রতিযোগিতায় যেতে হয়নি বাদুড়দের। গবেষকদের মতে, ইউরোপ থেকে আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বাদুড়। এই দুই মহাদেশকে ঘিরেই তাদের প্রাথমিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হয়। তবে প্রথমে উড়তে শেখা নাকি ইকোলোকেশন ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয় গবেষকমহল। প্রাচীন সেই বাদুড় দেখতে ঠিক কেমন ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরও মেলেনি। গবেষকদের অনুমান, প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগের বাদুড় দেখতে হয়তো লম্বা আঙুলযুক্ত কোনও গেছো ছুঁচোর মতো ছিল। তবে সেটি নিছক অনুমানমাত্র। কারণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া প্রাচীনতম জীবাশ্মটিও আধুনিক বাদুড়ের সঙ্গে যথেষ্ট সাদৃশ্যপূর্ণ।

×
  • CTVN