Calcutta Television Network

science

আগুনপাখির অদ্ভুত জীবন

আগুনপাখির অদ্ভুত জীবন
15 October 2026 • 02:05:31 pm

১৯৩৯ সাল। যুদ্ধের দামামা বেজে গেছে বিশ্বজুড়ে। গোলাগুলি ইত্যাদি থেকে বহু দূরে অবস্থানরত এক বালক। বয়স প্রায় ৮ বছর। দরিদ্র পরিবার। খুড়তোতো ভাই কাগজ বিক্রির কাজ করে। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালীন দক্ষিণ ভারতের রামেশ্বরম স্টেশনে ট্রেন থামতো না বড়ো একটা। চলন্ত ট্রেন থেকে নিক্ষেপিত হত কাগজের বান্ডিল। ভাইয়ের এই কাজে প্রয়োজন ছিল একজন সহকারী। সকাল সকাল অতো কাগজ সংগ্রহ করে বিতরণ করা একার পক্ষে কিঞ্চিৎ সমস্যাজনক। অগত্যা সাহায্যের হাত বাড়ালো ছোট ভাই। বান্ডিল সংগ্রহ করে বিতরণ অবধি সবটুকু কাজ হাতে কলমে শিখে নিল। কাজের বিনিময়ে জুটলো প্রথম পারিশ্রমিকও। পরবর্তী সময়ে প্রথম উপার্জনের এই আখ্যান তিনি লিখে রেখেছিলেন নিজের আত্মজীবনীতে। উইংস অফ ফায়ার। লেখক এপিজে আব্দুল কালাম।

তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে তাঁর জন্ম। পদার্থবিদ্যা নিয়ে দীর্ঘ পড়াশোনা। মহাকাশ প্রকৌশলও গুলে খেয়েছেন নিজের কর্মজীবনে। জুড়েছিলেন ভারতের বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শৈশবে পিতাকে দেখেছেন নৌকা চালাতে। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের পারাপার করে পৌঁছে দিতেন ধনুশকোডি। সংখ্যাতত্ত্বের মার্কশিটে তেমন নজর না কাড়লেও শিক্ষকরা বরাবরই তাঁকে খুব মেধাবী ছাত্র হিসাবে অভিহিত করতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা গণিত অধ্যয়ন করতেন তিনি। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা। একসময় ফাইটার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরীক্ষাতেও বসেন। বাছাইপর্বে নবম স্থান অধিকার করেন। একটুর জন্য নির্বাচিত হলেন না। মাত্র ৮টিই স্থান ছিল। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থায় চাকরিতে ঢুকেছিলেন। সবই হচ্ছিলো, কিন্তু শান্তি পাচ্ছিলেন না মনে। একদিন ডাক পেলেন ভারতের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে। বিক্রম সারাভাইয়ের অধীনে যোগ দিলেন। ১৯৯৮ সালের মে মাসে পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে তাঁকে সন্মান জানিয়ে ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতির পদ দেওয়া হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত প্রথম বৈজ্ঞানিক ছিলেন। তিনি ‘জনগণের রাষ্ট্রপতি’ রূপে দেশব্যাপী পরিচিত হন। পদত্যাগের পর কালাম শিক্ষকতায় ফিরে এসেছিলেন। তিনি প্রায়শই বলতেন গোটা জীবনটা তিনি শিক্ষা দিয়েই কাটাতে চান। বহু সেমিনারে অংশগ্রহণ করতেন। আইআইএম শিলংয়ের ভিজিটিং প্রফেসরও ছিলেন। ২০১৫ সালে সেখানেই, একটি সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গেছিলেন। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়ই খানিক অসুস্থতাবোধ করছিলেন। কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। বক্তৃতা শুরুর ৫মিনিট বাদে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

×
  • CTVN