এক সময় কি চাঁদেও ছিল অক্সিজেন? এমনকি কি প্রাণের সম্ভাবনাও ছিল সেখানে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই পুরনো প্রশ্নকে আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে চাঁদের পরিবেশ আজকের মতো ছিল না, বরং সেখানে সামান্য হলেও অক্সিজেনের উপস্থিতি থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা, পৃথিবী ও চাঁদ একই মহাজাগতিক ঘটনার ফল। অনেক গবেষকের মতে, পৃথিবী গঠনের সময় মঙ্গল গ্রহের সমান একটি বিশাল বস্তু পৃথিবীতে আঘাত করেছিল। সেই সংঘর্ষে পৃথিবীর অভ্যন্তরের কিছু পদার্থ মহাশূন্যে ছিটকে গিয়ে পরে জমাট বেঁধে তৈরি হয় চাঁদ। এই কারণেই দুই জগতের প্রাচীন ইতিহাসের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বর্তমানে চাঁদে নেই বায়ুমণ্ডল, নেই প্লেট টেকটনিক কিংবা অক্সিজেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চাঁদের প্রাচীন শিলা পরীক্ষা করলে কোটি কোটি বছর আগের মহাজাগতিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির কয়েকজন বিজ্ঞানী চাঁদের একটি শিলা বিশ্লেষণ করেছেন। এই শিলাটি ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের সময় চাঁদের মাটি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষণাটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে 'নেচার কমিউনিকেশন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
শিলাটিতে বিজ্ঞানীরা ইলমেনাইট নামের একটি খনিজের উপস্থিতি খুঁজে পান। এই খনিজ সাধারণত লোহা, টাইটেনিয়াম ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই শিলার টাইটেনিয়াম এমনভাবে ইলেক্ট্রন হারিয়েছে যা ইঙ্গিত দেয়-সেই সময় খুব অল্প পরিমাণ অক্সিজেনের সঙ্গে তার রাসায়নিক বন্ধন হয়েছিল।
এই পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, প্রায় ৩৮০ কোটি বছর আগে চাঁদের ম্যাগমা থেকে তৈরি হওয়া শিলার সময় কিছু অক্সিজেন উপস্থিত ছিল।
তবে গবেষকেরা এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি শিলার ইলমেনাইট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদ থেকে সংগৃহীত আরও শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হবে, একই রকম রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় কি না।
যদি সেই প্রমাণ মেলে, তবে প্রশ্ন উঠবে আরও বড়-চাঁদে কি কোনও সময় জীবনের সম্ভাবনাও ছিল? সেই উত্তর খুঁজতেই আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।