সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম বিস্ময় মহেঞ্জোদারো-যার ইতিহাস এত দিন ধরে প্রায় স্থির বলেই মনে করা হত-সেই ধারণাতেই এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলছে নতুন গবেষণা। সাম্প্রতিক খননকার্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, এই প্রাচীন নগরীর শিকড় হয়তো আরও গভীরে প্রোথিত।
আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহেঞ্জোদারোর সন্ধান দেন। এত দিন ধরে মনে করা হত, এই নগরব্যবস্থা গড়ে ওঠে আনুমানিক ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত তা বিকশিত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, এই সময়কাল আরও পিছিয়ে যেতে পারে-সম্ভবত ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় সাম্প্রতিক খননকার্যে পাকিস্তান ও আমেরিকার গবেষকরা যৌথভাবে অংশ নেন। এই গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিল 'ন্যাশনাল ফান্ড ফর মহেঞ্জোদারো'। খননের সময় স্তূপের পশ্চিমাংশে একটি প্রাচীরের মতো কাঠামো পাওয়া যায়, যা আগে নদীবাঁধ বলে মনে করা হত। তবে নতুন বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, এগুলি আসলে সীমানা প্রাচীর।
রেডিয়োকার্বন ডেটিং-এর মাধ্যমে এই প্রাচীরগুলির বয়স নির্ধারণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এগুলির সময়কাল ২৬০০ থেকে ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যেই পড়ে। অর্থাৎ, এই অঞ্চলে বসতি ও নগর পরিকল্পনার অস্তিত্ব এত দিনের ধারণার চেয়েও পুরনো হতে পারে।
এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন পাকিস্তানি প্রত্নতাত্ত্বিক আসমা ইব্রাহিম ও আলি লশারি, পাশাপাশি আমেরিকার University of Wisconsin–Madison-এর অধ্যাপক জোনাথন মার্ক কেনয়ার। যদিও গবেষণাটি এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হয়নি, প্রাথমিক তথ্যই ইতিহাসবিদদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যদি এই তথ্য প্রমাণিত হয়, তবে মহেঞ্জোদারোর ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পিয়ার রিভিউ ও গবেষণাপত্র প্রকাশের অপেক্ষা জরুরি।