প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গভীর বেদনার একটি। মা, বাবা বা কাছের কারও মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কোনওভাবেই পূরণ করা যায় না। অনেকের মনেই তখন প্রশ্ন জাগে-যদি মৃত্যু না থাকত, অথবা যদি প্রিয় মানুষগুলো কোনওভাবে আমাদের সঙ্গে থেকে যেত! আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সেই অসম্ভব ভাবনাই হয়তো ভবিষ্যতে বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।
বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এখন এমন এক প্রযুক্তির কথা সামনে আসছে, যার মাধ্যমে মৃত মানুষের ডিজিটাল পুনর্নির্মাণ সম্ভব হতে পারে। '2wai' নামের এক বিশেষ প্রযুক্তি নাকি মানুষের জীবিত অবস্থায় থাকা কয়েক সেকেন্ডের ভিডিয়ো ও অডিয়ো ব্যবহার করে তাঁর একটি বাস্তবসম্মত ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম। এই ডিজিটাল প্রতিরূপ শুধু দেখতে একই রকম হবে না, বরং সেই ব্যক্তির কথা বলার ধরন, অঙ্গভঙ্গি, বিরতি নেওয়ার ভঙ্গি-সবকিছুই অনুকরণ করতে পারবে।
বিজ্ঞানীরা এই ধারণাকে বলছেন ‘অ্যালগরিদমিক আইডেন্টিটি’। অর্থাৎ, কোনও মানুষের কেবল স্মৃতি নয়, তাঁর ভাবনা, প্রতিক্রিয়া এবং যোগাযোগের ধরনও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন করাও সম্ভব হতে পারে-যেন তিনি এখনও আমাদের মধ্যেই আছেন।
এখানেই শেষ নয়। নতুন প্রযুক্তি যেমন ভলিউমেট্রিক ডিসপ্লে এবং রিয়েল-টাইম হলোগ্রাম এই ডিজিটাল পরিচিতিগুলোকে শুধু মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ রাখবে না। বরং থ্রি-ডি আকারে বাস্তব জগতেও তাদের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। এমনকি তাঁদের চারপাশে ঘোরা, দেখা বা কথা বলাও সম্ভব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদি এই প্রযুক্তি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। তখন হয়তো মৃত্যু আর সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ নয়, বরং স্মৃতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রিয়জনদের উপস্থিতি কোনও না কোনওভাবে অনুভব করা যাবে।
তবে এই প্রযুক্তি যতটা বিস্ময়কর, ততটাই তা নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নও উঠছে। তবুও একথা বলা যায়-আগামী দশকে প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও মৃত্যুর ধারণাকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।