Calcutta Television Network

সুখবর! ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে ওজ়োন স্তর

সুখবর! ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে ওজ়োন স্তর
22 September 2026 • 12:50:38 pm

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর পরিবেশবিদদের ঘোরতর চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের ওজ়োন স্তরের ক্ষয়। তবে ইদানীং নাকি সেই পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সাম্প্রতিকতম তথ্য বলছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিগ্রস্ত এই স্তর ক্রমে ফের স্বাভাবিক অবস্থার দিকে এগোচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও-র প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ওজ়োন স্তরের সবচেয়ে বড় ক্ষয়টি লক্ষ্য করা যায় দক্ষিণ মেরুর নিকটে। আন্টার্কটিকার আকাশে প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে বড় আকারের ওজ়োনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উত্তর মেরু অঞ্চলেও কখনও কখনও এমন ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। তবে সেখানে ক্ষয়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং তা দীর্ঘস্থায়ীও নয়। ডব্লিউএমও-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্টার্কটিকার উপর তৈরি হওয়া ওজ়োনের ঘাটতি গত কয়েক দশকের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে বায়ুমণ্ডলে ওজ়োনের গড় ঘাটতি ছিল ৫ কোটি টনের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পরিমাণ নামতে নামতে পৌঁছয় প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ টনে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ঘাটতি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। শুধু পরিমাণেই নয়, ওজ়োনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আয়তনও গত বছর তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছিল।

১৯৯২ সাল থেকে যে তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে ২০২৫ সালের আন্টার্কটিক ওজ়োন ঘাটতি সবচেয়ে ক্ষুদ্রগুলির একটি। আয়তনের বিচারে তা চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম মাপের অন্তর্গত। এর আগের বছরও একই রকম স্বস্তির ছবি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধারাবাহিক পরিবর্তন খানিক আশাব্যঞ্জক। ওজ়োন স্তরকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সুরক্ষা-কবচও বলা হয়। মাটির উপর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বৃহৎ অংশকে আটকে দেয়। অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত প্রভাব মানুষের ত্বক ও চোখের ক্ষতিসাধন করতে পারে এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। ওজ়োন স্তরের ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা সিএফসি গ্যাস। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক বায়ুমণ্ডলে গিয়ে ওজ়োনের ক্ষতিসাধন করত। বিষয়টি সামনে আসার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৯৮৭ সালে বিশ্বের সমস্ত দেশগুলি মন্ট্রিল প্রোটোকল গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে সিএফসি-সহ ওজ়োনের ক্ষতিসাধনকারী এমন রাসায়নিকের ব্যবহার ও উৎপাদন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডব্লিউএমও-র মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকে ওজ়োন স্তর পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ধারাবাহিক ভাবে কাজ চলছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবীর সুরক্ষা-কবচ অনেকটাই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পর পর দু’বছর আন্টার্কটিকার ওজ়োন ঘাটতি তুলনামূলক কম হতে থাকা সেই আশাকেই আরও জোরালো করছে।