বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, গল্প জমে উঠেছে, কিন্তু আপনারই যেন সর্বনাশ! অন্যরা নিশ্চিন্তে বসে থাকলেও আপনাকে একের পর এক মশার কামড়ে জ্বালা সহ্য করতে হচ্ছে। বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলে ফেলল, 'মশা তোকে বেশি ভালোবাসে।' কিন্তু বিষয়টি যে শুধুই কাকতাল নয়, তার প্রমাণ মিলল বিজ্ঞানের গবেষণায়।
নিউ ইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুজীববিদ সাম্প্রতিক গবেষণায় জানাচ্ছে, কিছু মানুষ সত্যিই মশার কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়!
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকা ‘সেল’-এ। ৬৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর কয়েক বছর ধরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশাকে সামনে রাখা হলে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তির প্রতি মশারা প্রায় ১০০ গুণ বেশি আকৃষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা করার পরও ফল একই থাকে। এ কারণে গবেষকরা এঁদের নাম দিয়েছেন ‘মশক চুম্বক’।
গবেষকরা জানিয়েছেন, যাদের মশা বেশি কামড়ায় তাদের ত্বকে বিশেষ কিছু অ্যাসিড নির্গত হয়। এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। তবে একইসঙ্গে এগুলো মশাদেরও টানে।
ত্বকে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া এই অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন ‘পিচ্ছিল’ কণাগুলোকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এর ফলেই নির্দিষ্ট ধরনের শরীরের গন্ধ তৈরি হয়। আর সেই গন্ধই মশাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। অর্থাৎ, এই প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কারণেই কিছু মানুষ চিরকাল মশার টার্গেট হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই অ্যাসিডগুলো শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাই ইচ্ছে করলেও এগুলোকে শরীর থেকে সরানো সম্ভব নয়। বরং এমনটা করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ফলে যাদের মশা বেশি কামড়ায়, তাদের এই সমস্যার সঙ্গে সারাজীবনই মানিয়ে নিতে হবে।
যদিও মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তবু কিছু অভ্যাসে মশার যন্ত্রণা কমানো সম্ভব। মশারি বা রেপেলেন্ট ব্যবহার করে, গা ঢাকা পোশাক পরে, আশপাশে জমে থাকা জল ফেলে দিয়ে, মশা প্রতিরোধী গন্ধযুক্ত তেল বা স্প্রে ব্যবহার করে মশার হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।
মশা নিছক বিরক্তিকর নয়, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগের বাহক। তাই এই নতুন গবেষণা শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
বন্ধুরা মশকরা করে বললেও বিষয়টি মোটেও মজার নয়। বাস্তবে সত্যিই কিছু মানুষ মশার কাছে অদ্ভুতভাবে আকর্ষণীয়। কারণ তাদের শরীরের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যই তাদের মশার ‘প্রিয় খাবার’ বানায়। ফলে বলা যায়, মশা সত্যিই কাউকে কাউকে বেশি ভালোবাসে!