মহাকাশে দীর্ঘদিন বসবাসের স্বপ্ন এখন আর শুধু বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয় নয়। ভবিষ্যতে মানুষ চাঁদ বা মঙ্গলে বসতি গড়ার পরিকল্পনাও করছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য পরিবেশ কি মানুষের প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে?
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে শুক্রাণুর চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও তারা অনেক সময় লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে। অর্থাৎ ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছোনোর ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ে।
এই পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতেই কৃত্রিম ভাবে মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য পরিবেশ তৈরি করেন। ব্যবহৃত হয় বিশেষ ৩ডি ক্লিনোস্ট্যাট যন্ত্র। মানুষ, শূকর এবং ইঁদুরের শুক্রাণু নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়।
ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। দেখা যায়, মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় শুক্রাণুগুলি অনেকটা চোখবাঁধা মানুষের মতো ঘুরে বেড়ায়। তারা সঠিক পথে এগোতে না পেরে কখনও কখনও নিজের পুচ্ছের চারপাশেই ঘুরতে থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, স্ত্রী জনননালীর আদলে তৈরি একটি বিশেষ চ্যানেলের সামনে এনে শুক্রাণুগুলিকে রাখা হয়েছিল। স্বাভাবিক মাধ্যাকর্ষণে বহু শুক্রাণু সহজেই সেই পথে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য অবস্থায় খুব কম সংখ্যক শুক্রাণুই সেই পথে এগিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই সমস্যার একটি সম্ভাব্য কারণ হল-মাধ্যাকর্ষণ না থাকলে শুক্রাণু প্রণালীর দেয়ালের স্পর্শ ঠিকভাবে পায় না। ফলে তাদের দিক নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের একটি গবেষণাতেও দেখা গিয়েছিল, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পরিবর্তনে শুক্রাণুর শক্তি ও সক্রিয়তা কমে যেতে পারে। নতুন গবেষণা সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও বলছেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য পরিবেশে নিষেক পুরোপুরি অসম্ভব নয়। কিছু শুক্রাণু এখনও ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। কিন্তু সাফল্যের হার কমে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে থাকলেও প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বোঝার জন্য আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।