'দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ। ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস।।' আর এই বাতাসের মধ্যে বসেই দেখতে পাওয়া যাবে এক মহাজাগতিক ঘটনা, যার সাক্ষী থাকবে পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু জেলা। দোলপূর্ণিমার রঙের উৎসবের মাঝেই আকাশে ধরা দেবে এক মহাজাগতিক বিস্ময়... পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। যদিও এখানে বলে রাখা ভালো... ভারত থেকে সম্পূর্ণ পূর্ণগ্রাস স্পষ্টভাবে দেখা যাবে না, তবুও পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলায় কিছু সময়ের জন্য উপভোগ করা যাবে এই বিরল দৃশ্য। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ, যা স্থায়ী হবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।
ভারতে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ৫টা ৩২ মিনিটে (ভারতীয় সময়)। তবে দেশের বহু জায়গায় তখনও সূর্যাস্ত না হওয়ায় পূর্ণগ্রাস পুরোপুরি দৃশ্যমান নাও হতে পারে। খণ্ডগ্রাস চলবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত।
কোথায় কখন দেখা যাবে? কলকাতায় বিকেল ৫:৩৯-এ চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ দৃশ্যমান হবে, প্রায় ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট। দার্জিলিং-এ দৃশ্যমান হবে ৫:৩৭ থেকে, প্রায় ১ ঘণ্টা ১১ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে। কোচবিহারে ৫:৩৩ থেকে দেখা যাবে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে। মেদিনীপুর থেকে চন্দ্রদ্রহণ দেখা যাবে ৫:৪৪ থেকে, প্রায় ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে। এবং মুর্শিদাবাদ থেকে দেখা যাবে ৫:৩৮ থেকে, প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।
বিশ্ষজ্ঞরা বলছেন, এছাড়াও দেখা যাবে ব্লাড মুন। আসলে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় বলেই আমরা তাকে দেখি। যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে... তখনই চন্দ্রগ্রহণ হয়। পূর্ণগ্রাসের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের নীল আলো ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু লাল আলো তুলনামূলকভাবে কম বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের উপর পৌঁছয়। ফলে চাঁদ তামাটে বা লালচে আভা ধারণ করে... যাকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।