শারদ উৎসবের আবহে গোটা পশ্চিমবঙ্গ যখন দুর্গোৎসবে মেতে, ঠিক তখনই ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ৪১ বছর পর এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এশিয়া কাপ ২০২৫-এ ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে দুইবার পরাজিত করে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। তবে অনেকের মতে, ফাইনালের মঞ্চে পাকিস্তানকে হারানো সহজ কাজ হবে না। কারণ ইতিহাসের পরিসংখ্যান উল্টো কথা বলে!
ফাইনালের পুরনো হিসাব:
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালের মঞ্চে এই দুই দল মোট ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এই ১০টি লড়াইয়ের মধ্যে ৭ বার জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান, যেখানে ভারত মাত্র ৩ বার জিতেছে।
১৯৮৫ সালে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বে ভারত জিতেছিল বেনসন ও হেজেস বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে রবি শাস্ত্রী ও শ্রীকান্তের ব্যাটে এবং কপিল-শিবরামকৃষ্ণণের বোলিংয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে। পরের বছর, ১৯৮৬-র অস্ট্রাল-এশিয়া কাপের ফাইনালে জাভেদ মিয়াঁদাদের শেষ বলের ছক্কা ভারতীয় সমর্থকদের হৃদয়ে আজও দগদগে স্মৃতি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৪, ১৯৯৯—বারবার শারজাহ সাক্ষী থেকেছে পাকিস্তানের দাপট ও ভারতের লড়াই।
তবে ১৯৯৮-র ঢাকার সিলভার জুবিলি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে সৌরভ গাঙ্গুলির ১২৪ রানের ইনিংস এবং রবিন সিংয়ের ৮২ রানে ভারত জয় ছিনিয়ে নেয়। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ধোনির নেতৃত্বে ভারত মাত্র ৫ রানে জয় পায়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০০৮ ও ২০১৭ সালে আবার পাকিস্তান ভারতকে হারিয়ে দেয় যথাক্রমে কিটপ্লাই কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। ফখর জামানের সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ আমিরের বিধ্বংসী বোলিং ২০১৭-র ফাইনালকে পাকিস্তানের জন্য স্মরণীয় করে তোলে।