Calcutta Television Network

ফাইনালে ভারত-পাক! ৪১ বছরের অপেক্ষার পর মহারণের মঞ্চে...

ফাইনালে ভারত-পাক! ৪১ বছরের অপেক্ষার পর মহারণের মঞ্চে...

26 September 2025 , 12:49:12 pm

এশিয়া কাপে ক্রিকেটের উত্তাপ এবার অন্যরকম। শুধু দেশের হয়ে নয়, ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়েও উত্তেজনার ঢেউ তুলেছে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল। রবিবারে দু’দলের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে আকাশই যেন কাঁপছে। দীর্ঘ ৪১ বছর পর এই ফাইনাল, যেখানে ভারত-পাকিস্তান লড়াই করবে এশিয়ার সেরা হওয়ার জন্য।

চলতি এশিয়া কাপে এই দুই দল ইতিমধ্যেই দু’বার মুখোমুখি হয়েছে। দু’বারই জয় এসেছে ভারতের। এবার তৃতীয়বার, ফাইনালে, পাকিস্তান কি বদলার ম্যাচ ঘিরে ইতিহাস গড়তে পারবে? নাকি সূর্যকুমার যাদবদের নেতৃত্বে ভারত জয়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করবে? উত্তরের জন্য ক্রিকেটবিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

পাকিস্তান ফাইনালে ওঠার পথ সহজ ছিল না। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে ১১ রানের জয় আদায় করে। যদিও ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের পক্ষে আশা জাগানো ছিল, পরপর দু’দিন খেলার ধকল ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি তাদের ব্যাটিংকে দুর্বল করে দেয়। লিটন দাস ভারতের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে না পারায় বাংলাদেশ তাদের প্রধান ব্যাটারের দেখা পেল না।

পাকিস্তানের ব্যাটিং শুরুতে হতাশাজনক। টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ৪৯ রানে পড়ে ৫ উইকেট। সাহিবজাদা ফারহান প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান করে আউট হন। চলতি এশিয়া কাপে এই প্রথম ওভারেই তিনি আউট হলেন না, এমনটা আশা করা হয়েছিল, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। এছাড়া সাইম আয়ুব, ফখর জমান, সলমন আলি আঘা ও হুসেন তলত রান করতে ব্যর্থ হন।

বাংলাদেশের বোলাররা যথেষ্ট ভাল বল করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং মহম্মদ নওয়াজ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান তুলে দলকে রক্ষা করে। ফাহিম আশরফ ও মহম্মদ হ্যারিসের ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস পাকিস্তানকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে।

পাকিস্তানের ব্যাটিং পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছিল, ১০০ রানও হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ১৩৫ রানের ছোট কিন্তু তর্কসাপেক্ষ লক্ষ্য ঠিক রাখতে সক্ষম হয় তারা।

লক্ষ্য কম হলেও, বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুতে ধীরগতিতে এগোতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন প্রথম ওভারে ছক্কার চেষ্টা করতে গিয়ে শূন্য রানে ফিরে যান। সইফ হাসান কিছুটা মানিয়ে নিলেও হ্যারিস রউফের শিকার হন। একাই লড়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে, তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সাহসী ব্যাটিং দেখা যায়নি।

শামিম হোসেন ৩০ রান করেছিলেন, বাকি ব্যাটাররা কার্যত ব্যর্থ। পাকিস্তানের পেস ও বৈচিত্র্য এবং মাঝারি স্পিনারদের ধারাবাহিক উইকেট তুলে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়। প্রত্যেকে বড় শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট হারায়। ব্যাটাররা সময় নেননি, যার ফলেই ১৩৬ রান তাড়া করতে ব্যর্থ হল বাংলাদেশ।

এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে পাকিস্তান কি আবারও ভারতের কাছে হার মেনে নেবে, নাকি বদলার ম্যাচ খেলতে পারবে। তিন দিন পর ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা নতুন এক মহারণের। মাঠে যে উত্তাপ, যে আবহ, তা শুধুই ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়, দুই দেশের কোটি কোটি হৃদয় স্পর্শ করবে।

ফাইনাল ম্যাচ শুধু রানের জন্য নয়, এটি দুই দেশের ইতিহাস, প্রতিযোগিতা এবং অহংকারের লড়াই। সূর্যকুমারেরা কি আবারও জয় উপহার দেবেন নাকি সলমন আলি আঘারা নেতৃত্বে পাকিস্তান ইতিহাসের পাতায় নাম লিখাবে? সব উত্তর পাওয়া যাবে রবিবারের ম্যাচে।

ক্রিকেট বিশ্বের জন্য এটি হবে এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। ৪১ বছরের অপেক্ষা, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে ফাইনালে ওঠা, দুই দেশের ক্রিকেটারদের আবেগ ও প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে এই ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াই সবসময়ই আলাদা রূপ ধারণ করে। এবারের ফাইনালও তার ব্যতিক্রম হবে না। কেবল এক দিন নয়, ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখা হবে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN