ক্রিকেট বিশ্বকাপ, নামটা শুনলেই খেলা প্রেমীদের মনে একটা আলাদাই উত্তেজনা কাজ করে। এই সূত্র ধরে বলা ভালো, সম্প্রতি হয়ে গেল অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। আর, এই বিশ্বকাপেও জল হল ভারতের। এক কথায় বলতে গেলে এই ওয়ার্ল্ডকাপ বুঝিয়ে দিল ভবিষ্যতের ক্রিকেট জগতের খেলোয়াড়রা তৈরী হচ্ছে এখন দেখেই। আর, একজন ভালো প্লেয়ার হওয়ার জন্য যা যা মশলা দরকার তা সবই রয়েছে বৈভব সূর্যবংশীর মধ্যে। জানা যাচ্ছে, ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাট করে ভারত রান করেছিল ৪১১/৯। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের খেলতে গিয়ে দম ফুরিয়েছে ৩১১ রানে। তবে, সেলেব ফ্যালকনার অনেক চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বলাই বাহুল্য, ভারত কেবল এই বছরেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এমনটা নয়, এই নিয়ে ৬বার পরপর জয়ী হয়েছে। এর আগে মেয়েরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দু’বার জিতেছে। গত বছর মেয়েদের দল এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছে। অন্যদিকে, আবার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপ। এবারের পুরো মাছের মধ্যে বৈভব সূর্যবংশী নামের এক বিস্ময়বালক ওপেন করতে নেমেই তাকে লাগিয়ে দিলেন দর্শকদের। বলতে গেলে, বছর ১৪-এর বৈভবের বাতের উপর ভর করেই ভারত বিশ্বকাপ জিতল। ৮০ বলে ১৭৫ রান করে শুল্কে তাকে লাগিয়ে দিয়েছে বৈভব।
অপরপ্রান্তে, ইংল্যান্ডের ওপেনার বেন ডকিন্স রান করেছিল ৬৬। বেন মায়েস রান করেছিল ২৮ বলে ৪৫। থমাস রিউ ১৮ বলে ৩১ করেন। টিম ইংল্যান্ডের এমন রান দেখে খেলা ঘুরতে পারে এমনটা ইনেকেই আন্দাজ করেছিলেন। খেলার মাঝে ৯টা চার আর ৭টা ছয় নিয়ে কিছুটা হয়েও বিভ্রান্ত হয়েছিল ভারতীয় বোলাররা। তবে, শেষমেষ ইংল্যান্ডের কেউই বৈভব হয়ে উঠতে পারলেন না। ভারতের হয়ে ট্রফি জেতার পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেছেন, এ এক অসাধারণ অনুভূতি। তিনি জিম্বাবোয়েতে এর আগেও খেলেছেন। কিন্তু, এইবারের খেলাটা একেবারে অন্যরকমের। কথায় কথায় তিনি জানান, তাঁর প্লেয়ারদের জন্য খুব গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ভারতই লড়াই করে গেছে।
এদিকে আবার, ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেছেন, একটা সময় পর্যন্ত তিনি খুব চাপ অনুভব করছিলেন। তবে, ধৈর্য রেখেছিলেন তিনি। বোলাররা খুব ভালো বোলিং করেছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জেতা হল। এমন খুশির খবরে সেলিব্রেট করা হবে। গত দুটো বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছে সবাই। আর, সেই পরিশ্রমের ফল হাতেনাতে পাওয়াও গেছে। শেষবার ইন্ডিয়া হেরেছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। কথায় কথায় তিনি বলেন, বৈভব সূর্যবংশী প্রথম থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল।