মেয়ে গাড়ি চালানো শিখেছে। বেঙ্গালুরুতে যখনই পাঠানো হয়েছিল তখনই বুঝে নিয়েছিলেন মেয়ের এবার পাখনা গজাবে। বাড়িতে এক সপ্তাহের জন্য এসে মেয়ের আবদার, গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যাবে। পাগল!! এখনই মরার ইচ্ছে নেই পঞ্চানন্দ তালুকদারের। কিন্তু টুলটুল বৌদিও যে অষ্টাদশী মোডে চলে গিয়েছেন, বোঝা যায়নি আগে। অগত্যা তিন দিনের জন্য ৫০০০ টাকা দিয়ে একটা ড্রাই ট্রাভেরার ভাড়া করা হল। যাত্রী, ড্রাইভার রিমিকে নিয়ে সাত জন। শালীর দু'ই ছেলে মেয়ে আর বর ও যোগ দিয়েছে এবারের ট্যুরে। বজরং বলিকে ২১ টাকার পুজো দিয়ে শুক্রবার রাতে গাড়ি ছাড়া হল।
পাঁশকুড়া-রতুলিয়া-মেদিনীপুর-বেলপাহাড়ি-চাকাডোবা-পচ্ছপানি হয়ে ঝিলিমিলি অরণ্য কলকাতা থকে আড়াইশো কিলোমিটারের মত। জঙ্গলে ঢোকা মাত্রই গোটা প্রকৃতি যেন একটা সবুজের ক্যানভাস, যেভাবে খুশি মাটির রাস্তা,পাখি, শুকনো পাতা, ধোঁয়ার মত কুয়াশা দিয়ে সাজানো। ঝিলিমিলি এবং সুতান জঙ্গল বারো মাইল জঙ্গলের নামেও পরিচিত। এটি মুকুটমণিপুর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে এবং বাঁকুড়া শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। ফ্লাস্কে দুধ ভরে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হয়েছে কাগজের কফি কাপ। জঙ্গলের মাঝে মাঝেই কফি ব্রেক। তারই সঙ্গে দুই বোন তাদের বোনঝি আর বোনপো দের নিয়ে শুধু খিচিক আর খিচিক।
ঝিলিমিলি রেঞ্জের মধ্যে সুতান লেকটির অবস্থান। জঙ্গলের মাঝে এই লেক। জঙ্গলে হাজার পাখি, আর ময়ূর। সুতান জঙ্গল দুয়ারসিনি হয়ে দলমা রেঞ্জের সঙ্গে মিশেছে। শীতের কুয়াশার চাদর চাপা গোটা জঙ্গল আপনাকে ডুয়ার্সের ফিলিংস দেবে। ঝিলিমিলিতে থাকার জন্য বেস্ট জায়গা হল সরকারী গেস্ট হাউস। যদিও এটা চলে প্রাইভেট তত্ত্বাবধানে। নাম গুগল আঙ্কলকে জিজ্ঞাসা করলেই বলে দেবে। রিসোর্টের আশেপাশে কিছু ট্রাইবাল গ্রাম রয়েছে।
এখান থেকে রানীবাঁধ ২২ কিলোমিটারের মত সেখান থেকে আরও ৬ কিলোমিটার দূরে তালবেরিয়া বাঁধ। রিসোর্ট থেকে খাবার আর একটা ত্রিপল নিয়ে এসেছিলেন টুলটুল বৌদিরা। জঙ্গলেই দুপুরের খাবার খেয়ে নেওয়া গেল বনভোজনের আমেজে। খাওয়া দাওয়া করে শালপাতার থালা একটা খালি বস্তায় ভরতে ভরতে বিকেলের শিরশিরে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মেয়ের গাড়ি চালানোর ওপর এবার কনফিডেন্স পাচ্ছেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। এখান থেকে মুকুটমণিপুর কাছেই। একরাত ওখানে থাকার প্ল্যান করছে গোটা গ্রুপ।