ঘন জঙ্গল, তারমধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাইসন। ডুয়ার্স বলতে আমরা মোটামুটি ভাবে এমনটাই বুঝি। বসন্তে জঙ্গল মানে কচি পাতা, হাজার ফুল। সবুজের মেলায় কালো অজগরের মত শুয়ে আছে পিচ ঢালা রাস্তা। এই রাস্তা চলে যায় কোনও নদীর পারে। পথে কান ঝালাপালা করে দেয় পাখির কিচির মিচির। পাহাড়ের মত ডুয়ার্সেও গড়ে উঠেছে কিছু নতুন ডেস্টিনেশন। মার্চে একবার ঘুরেই আসতে পারেন।
ভাট্টি
ডুয়ার্সে জঙ্গল যদি উত্তমকুমার হয় তাহলে মূর্তি নদী অবশ্যই সুচিত্রা সেন। অদ্ভূত জুটি। নদী দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। ঘাসফুলের আগায় প্রজাপতির ঝাঁক। আকাশে মেঘ সূর্যের লুকোচুরি। মৌনি পাহাড়ের মত নিস্তব্ধ নয়। বরং মূর্তি যেন একটু বেশিই চপল। ভাট্টি যাবার রাস্তা চোখে আরাম দেবে বটে, কিন্তু যাত্রা আরামদায়ক নয় মোটে। রকি আইল্যান্ডের পর থেকে গাড়ির স্টিয়ারিং নিজের হাতে না রাখাই ভালো। এখান থেকে হোম স্টের জিপ ভাড়া করে নিন। ভাট্টি থেকে ঘুরে নেওয়া যায় সন্তলেখোলা, বিন্দু ভিউ পয়েন্ট, ঝালং. সামসিং ভিউ পয়েন্ট। হেঁটে ঘুরতে পারেন ভাট্টি। শিলিগুড়ি থেকে রকি আইল্যান্ডের দূরত্ব ৯৫ কিলোমিটার। ভাট্টি থেকে লাটাগুড়ি থেকে গরুমারা জঙ্গল সাফারিও করা যায়।
বুড়িখোলা
বর্ষায় বুড়িখোলা ঘন সবুজ। বসন্তে রূপসী। মালবাজার পার করে গরুবাথানের দিকে কিছুটা এগোলেই পাহাড়ের হাতছানি। গরুবাথান ঢোকার আগে বেঁকে যেতে হবে ডান হাতে। দুপাশে ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গল পেরিয়ে হঠাৎ দেখা বুড়ি নদীর সঙ্গে। স্থানীয় ভাষায় নদীর নাম খোলা। সেখান থেকেই বুড়িখোলা। নদী পার করে বুড়িখোলা গ্রাম। এখান থেকে শাকামের জঙ্গল, চাপড়ামারি, জলদাপাড়া সহ যেকোনও জঙ্গলই ঘুরতে পারেন। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন লাভা থেকেও। থাকার বিষয়ে একটাই কথা বলার। বুড়ি খোলায় থাকার অনেক অপশন পাবেন না। হাতে গোণা কয়েকটাই হোম স্টে আছে। সুতরাং আগে কথা বলে তবে আসবেন।