চোখের সামনে আকাশ ছোঁয়া নটরাজ। মাথায় ধুম্র জটাজাল। গোটা শরীর সাজানো চাঁদ তারায়। ধীরে ধীরে ঘোর কাটল। লেয়ারের পর লেয়ার পাহাড়। মাথায় সাদা মেঘটা চাঁদের আলোয় একটু বেশি সাদা। পাহাড়ের গায়ে দূরে কোনও অচিন গাঁ গঞ্জের আলো মিট মিট করে জ্বলছে। আপনি হোমস্টের ব্যালকনিতে গায়ে একটা চাদর ফেলে কল্পনার জাল বুনছেন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ডামেগাঁও গাড়িতে আসতে সময় লাগে মেরে কেটে তিন ঘণ্টা। রাস্তায় পড়বে মিরিখ। মিরিখ লেকের জলে পাহাড়ের ছবি দেখতে দেখতে মোমো খেয়ে হালকা খিদে মিটিয়ে নিতে পারেন। পথে পড়বে গোপালধারা। এছাড়াও একুশ হাজার স্পট। যে স্পটে আপনার গাড়ি থামাতে ইচ্ছে করবে। সেলফি তুলতে ইচ্ছে করবে পাহাড়ের সঙ্গে। বেলা পেরিয়ে তখন বিকেলের দিকে। ইতিমধ্যেই রাস্তায় দু পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। আপনার হোমস্টে ঠিক পাহাড়ের ধাপে ঝুলে আছে। হোমস্টেতে ঢুকেই গরম গরম ভাত, ডাল , স্থানীয় তরকারি আর চামড়া ওয়ালা চিকেন।
নিউ জলপাইগুড়িতে রীতিমত ঘাম হচ্ছিল। কিন্তু এখানে জাঁকিয়ে শীত। হোমস্টে ঘিরে পাইন বন। পাহাড়, হরেক ফুল আর নাম না জানা পাখি। চারিদিক এতটাই নিস্তব্ধ যে আপনি পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দও শুনতে পারবেন। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামে ঝুপ করে। সন্ধ্যার পর আর তেমন কিছু করার নেই। যদি পাঁচ ছ জনের গ্রুপ যান তাহলে রাতের খাবার শেষ করে ফিস কিংবা টোয়েন্টিনাইনে মন দিতে পারেন। সকালের ভোরের দিকে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। আপনার কাচের জানলায় কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জলের রূপ নিয়েছে। বারান্দায় ক্যাকটাসগুলি তখন রীতিমত ভিজে আছে। সোনালি রোদ এসেছে আপনার বারান্দায়। লেপ গায়ে মাথাটা একটু তুললেই বাইরের পাহাড়ে সূর্যের ঘুম ভাঙা দেখতে পারবেন। বিছানাতেই চা পাওয়া যেতে পারে। সাতটার মধ্যে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ুন টুমলুং এর উদ্দেশে। গাড়ি করে মানেভঞ্জন হয়ে টুমলুং যেতে হয়। সেখান থেকে এগিয়ে গেলে সান্দাকফু। মানেভঞ্জন থেকে টুমলুং এর ট্রেকিং পথ ও রয়েছে।
টুমলুং বিখ্যাত কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জের জন্য। বর্ষা এবং ভীষণ শীত ছাড়া সকালে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা প্রবল। চাইলে এখানে দু একটা হোমস্টে আছে, একটা দিন কাটাতেও পারেন। একদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, পিছনে একটা ভ্যালিতে রডোডেনড্রন রূপের ঠমক দেখাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘার পারে হোমস্টের সঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট চা জল খাবারের হোটেল। পাহাড়ি চা যতবার পারেন খেয়ে নেবেন । সমতলে সেই স্বাদ পাবেন না। টুমলুং থেকে ফের ডামেগাঁও। রাতে হোমস্টেতে বলে রাখলে বন ফায়ার আর বার্বিকিউ। রাতের পাহাড়ে নিস্তব্ধতা খানখান করুক আগুনের আঁচ নিতে নিতে আপনাদের বেসুরো গান। সঙ্গে টুকরো ঝলসানো মাংস। পরের দিন ডামেগাঁওকে বাই বাই করে রওনা দিতে পারেন দার্জিলিং এর উদ্দেশে। তবে সে অন্য গল্প।