দোলাডাঙা নামটিই বেশ মিষ্টি। কংসাবতী নদীর তীরে একটা জঙ্গলে মোড়া গ্রাম। নদীপাড়ে এখনও মোবাইল টাওয়ার সভ্যতা খুঁজতে পরিশ্রম করে। এখনও এখানে কালীঠাকুরের নামে দিব্যি কাটা হয়। এখনও এখানে বুড়ো বটতলায় গল্প শোনায় বৃদ্ধ মজ। কিছুদূরেই মুকুটমণিপুর বাঁধ। একদিকে কংসাবতী লেক আর অন্যদিকে সোনাঝুড়ি জঙ্গল। নদীর তীরে রয়েছে তাবু। রাত্রিযাপন সেখানেই। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ভেসে পড়তে পারেন কংসাবতীর জলে। সন্ধ্যায় গোটা এলাকায় বনভোজনের মজা। রাতে গনগনে আগুনে ঝলসানো মাংস। দূরে জঙ্গল থেকে ভেসে এল পেঁচার ডাক। ফাগুনের হালকা হাওয়া। বাঁকা চাঁদ আকাশে।
অনেক রাত পর্যন্ত বিছানায় না গিয়ে উপভোগ করুন প্রকৃতি। খাবার দাবার মন্দ নয়, স্থানীয়দের হাতে তৈরি বিভিন্ন রকম মাছ, মাংস আরও কত কী। কংসাবতীর জলে স্নান করুন মন ভরে। এ সময়টা পলাশ গাছে আগুন লাগে। আগুনের আভা ছড়ায় সুন্দরীর গালে। দোলাডাঙা থেকে একঘণ্টা দূরে মুকুটমণিপুর। কাছেই বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্ক। একটি মটোর ভ্যান করে ঘুরে সাতে পারেন এই পার্ক থেকে। প্রায় পঞ্চাশটির উপর চিত্রা হরিণ রয়েছে এই অভয়ারণ্যে। কলকাতা থেকে ট্রেন ধরে বাঁকুড়া হয়ে দোলডাঙা যাওয়া সুবিধাজনক। পরের দিন সকালে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ুন জঙ্গলে হাঁটতে। নিস্তব্ধ জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে চাইলে আপনি কবিতা বলতে পারেন,চাইলে গান গাইতে পারেন। কিংবা চুপ থাকতে পারেন। অনেক কিছু আশা করবেন না। নিতান্ত ছুটির মজায় বসন্তের দু দিন কাটাতে চাইলে যেতেই পারেন দোলাডাঙা।