প্রথমে একটা দরকারি কথা বলে নেওয়া যাক। সমতল থেকে পাহাড়ে ঘুরতে গেলে সঙ্গে কোকা থারটি নিয়ে নিতে ভুলবেন না। আর বেশ খানিকটা কর্পুর। বমি বমি ভাব, মাথা ঘোড়া, শ্বাসকষ্ট সবকিছু থেকে রিলিফ পাবেন। আর নিয়ে নেবেন তিন কপি ছবি আধার কার্ড আর ভোটার কার্ডের জেরক্স। রাতের গাড়িতে চড়ে সকাল সকাল এনজিপি। স্টেশনের ওয়েটিং রুমেই ফ্রেস হয়ে নেবেন। বাইরে অপেক্ষা করছে আপনার রথ। কিছুদূর থেকেই পাহাড়ে ওঠার পালা। প্রথমে আপনার গন্তব্য হোক গ্যাংটক। গ্যাংটক পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল হয়ে যাবে। শরীর পারমিট করলে হোটেলে এক কাপ কফি খেয়ে বেড়িয়ে পড়ুন এমজি মার্গে। ঝা চকচকে রেস্তোরাঁ ক্যাফে বিভিন্ন গরম পোশাকের দোকান। সমতল থেকে নিয়ে না এলে প্রয়োজনীয় শীত পোশাক কিনে নিতে পারেন এখান থেকেই এখানে রাতের খাবার একটু তাড়াতাড়িই খাওয়া হয়। সারাদিনের ক্লান্তি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে নিন। সকালে আপনার গন্তব্য লাচুং।লাচুং যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় ইনার লাইন পারমিট সেটি গ্যাংটক থেকেই নিয়ে নেবেন।
লাচুং উত্তর সিকিমের একটি জনপ্রিয় স্থান। গ্যাংটক থেকে দূরত্ব ১১০ থেকে ১১৫ কিলোমিটারের মধ্যে। রাস্তায় পড়বে কাবি, ফোদং, মংগং, সিংঘিক, চুংথাং। শীতকাল লাচুং বরফে ঢাকা থাকে। আর বসন্তে গোটা এলাকা সেজে ওঠে রডোডেনড্রনে। গ্যাংটক থেকে রাস্তায় থামতে থামতে ১১৫ কিলোমিটার পৌঁছতে লাগবে পাঁচঘণ্টার মত। চু নদীর পাড়ে লাচুং একটি পাহাড়ি গ্রাম। বর্ষায় পাহাড় ধস নামে। বাকি সময়ে যেকোনও সময়ে আসতে পারেন। বিকেল বিকেল লাচুং পৌঁছে দেখে নেবেন গ্রামের কার্পেট বুনন কেন্দ্র ও স্থানীয় গুম্ফাটি। লাচুং থেকে গাড়ি নিয়ে চলে যান ইউমথাং ভ্যালি। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার গোটা উপত্যকা সেজে থাকে বিভিন্ন রঙের রডোডেনড্রনে সঙ্গে প্রিমুলা এবং আরও নানা প্রজাতির ফুল। সরলবর্গীয় গাছ দিয়ে পাঁচিল তোলা। এ গাছ থেকে ও গাছ ধর্মীয় পতাকা চেন মত করে বাঁধা। উপত্যকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে ডিপ নীল পাহাড়ি নদী। ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্ট চিন সীমান্ত এখান থেকে খুব একটা দূরে নয় তাই অনুমতির প্রয়োজন হয়। রাতে ফিরে আসুন আবার লাচুং এর হোমস্টেতে। পরের দিন গন্তব্য লাচেন।
লাচেন বিখ্যাত গুরুদোংমার হ্রদের জন্য। লাচুং থেকে রওনা দিয়ে চুংথাং ছুঁয়ে চু নদীর পাশ দিয়ে পৌঁছতে হবে লাচেন। চুংথাং থেকে লাচেনের দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার। লাচেন এ রাত্রিবাস করে পরেরদিন কাকভোরে বেড়িয়ে পড়ুন গুরুদোংমারের উদ্দেশে। এখানে আবহাওয়া খামখেয়ালি। তাই দুপুরের মধ্যে গুরুদোংমার দেখে ফিরে আসাই মঙ্গল। লাচেন থেকে বেরিয়ে থাঙ্গুতে প্রাতরাশ সেরে নিতে হবে। সামনেই চোপতা ভ্যালি। থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমারের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটারের মত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৭৮০০ ফুট উচ্চতায় এই সরোবর হিন্দু এবং বৌদ্ধ উভয়ের জন্যই পবিত্র। অপূর্ব সরোবরের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণের রাস্তাও রয়েছে। তবে শরীর পারমিট না করলে বেশি হাঁটাহাটি করবেন না। গুরুদোংবার দেখে ফিরে আসুন লাচেন। লাচেন থেকে গ্যাংটক। গ্যাংটক থেকে আর একদিন সময় থাকলে ছাঙ্গু লেক বাবা মন্দির, নাথুলা পাশ ঘুরে আসতে পারেন। না হলে গ্যাংটকে সেই রাত কাটিয়ে সোজা নিউজলপাইগুড়ি। ফেরার পথে অনেকটা সময় হাতে থাকবে। তিস্তার বুকে ব়্যাফটিং করে নিতে পারেন। গোটা জীবনের জন্য একটি অনবদ্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।