আচ্ছা বলুনতো মানুষ কেন এখন ঘোরার জন্য অফবিট প্লেস খোঁজে? আসলে গোটা দিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যে মগজ যখন কর্টিকোট্রপিনে ভরপুর হয়ে ওঠে, তখন হাঁফিয়ে ওঠা মন বোধহয় লুকিয়ে পড়তে চায় পাহাড়ের কোলে। এখন মানুষ বুঝেছে পাহাড় মানে ম্যালেের ভিড় নয়। চেনা ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে কিছু অচেনা গ্রাম। rnrnবুরখুলুংrnrnএমনই এক গ্রামের নাম বুরখুলুং। মিরিকের থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে বুরখুলুং গ্রাম। পাহাড়ের খাঁজে ধাপচাষ, গ্রাম ঘিরে পাইন ওকের জঙ্গল এবং অজানা ঝোরা। সব মিলিয়ে বুরখুলুং যেন কোনও এক শিল্পীর ক্যানভাস। পাহাড় মানেই সবাই কাঞ্চনজঙ্ঘা বোঝেন। বুরখুলুং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সরাসরি দেখতে পাবেন না। কিন্তু হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পেতে পারেন অনেক জায়গা থেকেই। বুরুখুলুং মূলত কৃষিপ্রধান। বুরুখুলুং যেন আস্ত চিড়িয়াখানা। এই অচেনা গ্রাম থেকে আশেপাশে ছোট ছোট ট্রেক করতে পারেন। ঘন পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলা, এক আলাদা অভিজ্ঞতা। হাতে সময় থাকলে ঘুরে নিতে পারেন মিরিক লেক, বোকর মনেস্ট্রি, রামেতি ভিউ পয়েন্ট বা টিংলিং ভিউ পয়েন্ট। তবে আসল মজা কিছু না করে প্রাণ ভরে অক্সিজেন দিয়ে মনটাকে ভরিয়ে তোলায়।rnrnনোকদারা
rnকালিম্পঙের মানুষরা সাধারণত নোকদারাকে একটুকরো স্বর্গ বলে থাকে। কথাটা নেহাত ভুল নয়। নোকদারার লেকটি যেন রানির নেকলেসের নীলকান্ত মণি। পাহাড়ের কোলে এই লেকের শান্ত জলে নৌকাবিহার করার অভিজ্ঞতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। চারিপাশে পাইন বন। হাত বাড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। হোমস্টে থেকে গোটা উপত্যকা যেন সবুজ কার্পেটে মোরা। পাইনের মাথা ছুঁয়ে আপনার ঘরের জানলায় ধাক্কা মারবে মেঘ। কালিমম্পং শহর থেকে মোটামুটি ২৮ কিলোমিটার দূরে লাভার কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রাম। ভোরের প্রথম আলো যখন পাহাড়ের গায়ে পড়ে, তখন সোনা ছড়ায় নোকদারা গ্রাম জুড়ে। সরকারের উদ্যোগে এই পাহাড়ের ধাপগুলোতে অসাধারণ একটি বাগান এবং কৃত্রিম জলাধার তৈরি করা হয়েছে। নোকদারা থেকে লাভা রিশপ লোলেগাঁও ঘুরে নিতে পারেন।rnrnপালমাজুয়া
rnদার্জিলিংয়ের সিঙ্গালীলা ন্যাশনাল পার্কের কোল ঘেঁষে ছোট গ্রাম পালমাজুয়া। দার্জিলিং থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গ্রামটি মানেভঞ্জনের খুব কাছে। মার্চ এপ্রিল মাসে গোটা গ্রাম সেজে ওঠে রডোডেনড্রনে। পালমাজুয়ার বুক চিরে চলছে লোধোমা নদী। পাহাড়ি নদীর আওয়াজ শুনতে পাবেন নিস্তব্ধ রাতে। নদীর পারে বসে কাটিয়ে দিতে পারেন ঘন্টার পর ঘন্টা। এই গ্রামটিও পাখিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। বাইনোকুলারের চোখে দেখতে পারেন ব্লু হুইলিং থ্রাশ, ব্ল্যাকবার্ড। দেখা মিলতে পারে বিরল প্রজাতির রেড পান্ডারও। সান্দাকফু ট্রেকিংয়ে পালমাজুয়া বেস ক্যাম্প। এখানে গেলে অবশ্যই খেতে হবে সেকুয়া। রাতে পাহাড়ের গায়ে দূর গ্রামের আলো জ্বলতে থাকবে জোনাকির মত। নগরের চাকচিক্য নয় হিমালয়ের নির্জনতাকে উপভোগ করতে যেতেই পারেন পালমাজুয়া