Calcutta Television Network

যাবেন নাকি ভূত দেখতে?

যাবেন নাকি ভূত দেখতে?

22 November 2025 , 04:53:37 pm

বর্ষাকালের সঙ্গে ভূতেদের একটা নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তবে শীতকালে তেনাদের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেকটাই কমে যায়। এ বিষয়ে দুজনেই একমত। দুজনেই বলতে পঞ্চানন্দ তালুকদার এবং টুলটুল বৌদি। তাই দীপু যখন বলল ভূত দেখাবে তখন মনে একটা ভয়ের বাষ্প জমলেও, উৎসাহটা যেন চাগিয়ে উঠল। শনিবার রওনা রবিবার ফেরা। কাঁটা সাহেবের কুঠিতে। কে এই সাহেব? নাম জানা যায়নি ইতিহাসের পাতা থেকে। তখন নীল চাষের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ চরমে। মঙ্গলগঞ্জ ছিল নীল চাষের একটি কেন্দ্র। অনিচ্ছুক চাষিদের কুঠির গুমঘরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করত এবং নির্বিচারে হত্যা করত কুঠি মালিক।


একদিন জনরোষে পড়ে প্রাণ খোয়ালেন অত্যাচারী ব্রিটিশ ব্যবসায়ী। তারপর থেকেই তাঁর কুঠি কাঁটা সাহেবের কুঠি নামে পরিচিত। অধিকাংশ ভূতই বেঁচে আছে মানুষের গালগপ্পে। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হল না। এলাকার মানুষরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে সাহেবের ভূত দেখতে আরম্ভ করলেন। কেউ দেখলেন সাহেব পায়চারি করছেন। কেউ বা দেখলেন চাবুক হাতে কোথাও যেন যাচ্ছেন। মানুষে কুঠি বাড়িতে সন্ধ্যার পর যেতে ভয় পেতে শুরু করল। এরপর এল ডার্ক ট্যুরিজমের অধ্যায়। যেখানে ভূতের ভয় সেখানে ভীড় হয়। এ ভীড় পর্যটকদের ভীড়। সেই ভীড়ে সামিল হতেই পঞ্চানন্দ তালুকদার সস্ত্রীক চললেন বনগাঁর মঙ্গলগঞ্জে। ভূত আছে বা নেই তা নিয়ে  বিস্তর তর্ক রয়েছে। তবে ইছামতীর তীরে জায়গাটি বেশ মনোরম। যেন জসিমুদ্দিনের লেখা কবিতা।


বেশ কয়েকটি ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। গুগুল কাকুকে রেটিং জিজ্ঞাসা করে যেকোনও একটায় ঢুকে পড়ুন। গোটা দিন ইছামতির পারে নিজেদের সম্পর্কের মিষ্টি দিন গুলি ঝালিয়ে নিলেন মাঝবয়সী দুই নারী পুরুষ। টুলটুল বৌদির খিলখিল হাসিতে উড়ে গেল ফড়িং। এ সময়টায় বৌদিকে অনেকটা বৈজন্তীমালার চোখে দেখেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। ধীরে ধীরে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল এবার ভূত দেখতে যাবার পালা। টুলটুল বৌদি নিজের বটুয়ায় একটা হনুমান চল্লিশা নিয়ে নিয়েছেন। যদিও বিদেশী ভূতের ক্ষেত্রে হনুমান চল্লিশা কাজ করে কিনা বলা যাবে না, তবুও হাতের পাঁচ রাখা মন্দ নয়। গোটা রাস্তায় আলো দেখালো জোনাকি। সে এক অদ্ভূত অনুভূতি। দিনের বেলার সঙ্গে  রাতের কুঠির চিত্রটাই যেন বদলে গেছে। শ্যাওলা ধরা বড় বড় থাম। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল পেঁচা।


অমাবস্যা পেড়িয়ে আকাশে কাস্তে চাঁদ। কিছুটা অস্বাভাবিক আওয়াজ। টুলটুল বৌদির নখ চেপে বসছে পঞ্চানন্দ দার হাতে। ওনার অবস্থাও যে খুব একটা ভালো, তেমনটা বলা যাবে না। গোটা দিন ধরে গল্পের চরিত্র গুলি যেন রাতের অন্ধকারে সামনে চলে আসছে। গোটাটা ঘুরে যখন ক্যাম্পে ফিরলেন তখন রাত বেশ গভীর। খাওয়াদাওয়া করে সোজা বিছানায়। ঘুমটা তেমন যুৎসই হল না। কে যেন মাথার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল হতেই ভূত গায়েব। ফের গ্রাম বাংলা। খেজুর রস বিক্রি করতে এসেছিল এক শিউলি। জলখাবার খেয়ে এবার রওন দেবার পালা। এখান থেকে বেড়িয়ে বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য ঘুরে বিকেল বিকেল কলকাতার দিকে রওনা দিলেই হবে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN