অসীম সেনঃ সতেরো জনের দল নিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছেন চম্বলের দস্যু সর্দার মান সিং। মাথার ওপর ৮৫ টি খুন আর ১২০০ ডাকাতির মামলা। কারও কাছে তিনি ভগবান, কারও কাছে তিনি সাক্ষাৎ শয়তান। ট্রেনে যেতে যেতে মানসিং এর গল্প শুনছিলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। চম্বল, শুখা বেহড়, জঙ্গল সব মিলিয়ে গায়ে কাঁটা জাগানো ফিলিং। এখন অবশ্য চম্বল মানে অতীতের স্মৃতি আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। চম্বল নদীর পারে ৪২৫ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক অভয়ারণ্য। রাজস্থানের রণথম্বোর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে জাতীয় চম্বল ঘড়িয়াল অভয়ারণ্য।
নামেই প্রকাশ যে এখানকার আন-বান-শান বিরল প্রজাতির ঘড়িয়াল। দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে গিয়েছিলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার এবং তাঁর মিসেস টুলটুল তালুকদার। টুলটুল বৌদির পছন্দ যদিও ইতিহাস তবুও রাজস্থান ভ্রমণে এসে চলে এসেছিলেন রণথম্বোরে। এখানেই গাড়ির ড্রাইভারই বলল চম্বল অভয়ারণ্যের কথা। এমনিতে এই অভয়ারণ্যের কথা খুব একটা বেশী মানুষ জানেন না। কিন্তু এখানে এলে বুঝেছেন কুমির, ঘড়িয়াল ডলফিন আর পাখিদের মেলায় না এলে ঠকতেন। এই অভয়ারণ্য রয়েছে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশ জুড়ে। মোটের ওপর চম্বল যে যে রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তার দুপারেই রয়েছে এই জঙ্গল।
টোটাল প্রায় ২৯০ বর্গ কিলোমিটার। ঘড়িয়াল, ডলফিন ছাড়াও রয়েছে ভল্লুক, নীলগাই, কৃষ্ণসার হরিণ, সম্বর ছাড়াও ডোরাকাটা হানা। রয়েছে প্রায় ৩১০ প্রজাতির পাখি। যার মধি্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান স্কিমার, রাডিশেলডাক, বারহেডেডগুজ, ইন্ডিয়ানকোর্সার, মেছো ঈগল,ল্যাপউইং আরও হাজার পাখি। মখমলি কার্পেটের মত বিছিয়ে থাকা ঘাসে দেখা মিলতে পারে বিপন্ন লেসার ফ্লেমিংগো ও প্যালিড হ্যারিয়ার।
সাধারণত এই জঙ্গল দিনে দেখে দিনে ফেরা যায়। তবে টুলটুল বৌদির আবদারে একটা রাত এখানেই কাটিয়ে যাবেন বলে ঠিক করলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। ভোরের বেলায় বেড়িয়ে পড়েছিলেন নৌকা সফরে। যখন পাখিরা সব ঘর ছাড়ছিল। নিশুতি রাতে কুয়াশার চাদরে মোরা জঙ্গলে ক্যাম্প ফায়ার। টুলটুল বৌদির মুখে আগুনের লাল আভা। মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান। হাঁড় কাপানো ঠাণ্ডা। মোটা পশমের জ্যাকেটের ভিতরে কামড় বসাচ্ছে শীত।
রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জাতীয় চম্বল ঘড়িয়াল। অভয়ারণ্যের প্রবেশদ্বার পালিঘাটে। রেলপথে যেতে গেলে সওয়াই মাধোপুরে নামতে হবে। এখান থেকে সারে তিন ঘণ্টার দূরত্বে আগ্রা। সামনেই পূর্ণিমা। পূর্ণিমার রাতে তাজমহল নাকি সদ্য ফোটা বেলফুলের মত লাগে? টুলটুল বৌদির প্রশ্নে ইঙ্গিত পরিস্কার।