আর্যরা বিন্ধ্য পর্বত পেরোতে সময় নিয়েছিল বহু বছর। দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য রত্ন ভাণ্ডার। দক্ষিণের প্রতিটি জেলার ই রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য।যার কিছু আমরা জানি। অনেকটাই জানি না। মারোত্তিচাল হল কেরালার ত্রিশুর জেলার একটি অজানা পাহাড়ের নাম। এই পাহাড় এখনও পর্যটন মানচিত্রে নিজের নাম লেখায়নি।
আম্বালুর জাতীয় সড়ক ৪৭ থেকে সড়কপথে পূর্বে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়। ত্রিশুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বাস পরিষেবা রয়েছে। মারোত্তিচাল বাস স্টপ থেকে কিছু দূরেই পাবেন একটি বড় জলপ্রপাত। চারিপাশে বনে ঘেরা। বর্ষায় অথবা শীতে এখানকার দৃশ্য চোখ আটকে দেওয়ার মত। প্রতিবছর বেশ কিছু পাহাড় প্রেমী মানুষ ট্রেকিং করার জন্য এখানে আসেন। মারোত্তিচাল পাহাড় কিন্তু বুনো হাতির চারণভূমি। পাহাড়েও দুটি জলপ্রপাত আছে।
এক্সট্রা পোশাক থাকলে জলপ্রপাতে স্নানও সেরে নিতে পারেন। পাহাড় ঘেষা গ্রামের নামও মারোত্তিচাল। এ এক আজব গ্রাম। এ গ্রামে একশ শতাংশ মানুষই দাবায় দক্ষ। গ্রামের বট তলা কিংবা মানুষের দাওয়া যেখানে সেখানে দেখতে পাবেন একাধিক মানুষ বুঁদ হয়ে আছে দাবায়। তবে আগে কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল না। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মদ আর নেশায় আসক্ত ছিলেন। গ্রামের এক যুবক উন্নিকৃষ্ণণ দাবা শেখেন এবং গ্রামে দাবা খেলার প্রচলন করেন। মদ ও জুয়া ছেড়ে এই খেলার অনুরাগী হয়ে ওঠেন সকলে। দাবার জন্য এই গ্রামের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এ গ্রামে আসেন দাবা শিখতে। এখানকার স্কুলের সিলেবাসেও দাবা রয়েছে। গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। এখানে মানুষ টিভি দেখার থেকে বেশি পছন্দ করে দাবা খেলতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অদ্ভুত এই গ্রাম দেখতে একবার ঢুঁ মারতেই পারেন ত্রিশুরের মারোত্তিচালে।