Calcutta Television Network

ডাইনিবাজারের অলৌকিক কেনাবেচা

ডাইনিবাজারের অলৌকিক কেনাবেচা
29 September 2026 05:24:33 pm

ব্যস্ত শহরের কোলাহল পেরিয়ে হঠাৎই পৌঁছে যাওয়া যায় এমন এক বাজারে, যেখানে আধুনিক সময়ের সঙ্গে কয়েকশো বছরের পুরনো লোক বিশ্বাস হাঁটে পাশাপাশি। মেক্সিকো সিটির ‘মেরসাদো দে সোনোরা' এক অদ্ভুত বাজার। এখানে এক দিকে যেমন পাওয়া যায় নানা ধরনের ভেষজ ও শুকনো গাছপালা, অন্য দিকে রয়েছে তাবিজ, মোমবাতি, পুতুল এবং অলৌকিক লোকাচারের সঙ্গে যুক্ত নানা সামগ্রী। ১৯৫৭ সালে চালু হওয়া এই বাজারটি কয়েক দশকে মেক্সিকোর অতি পরিচিত একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের নিত্যদিনের ক্রয়বিক্রয়ের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও বাজারটির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। সরু রাস্তার দু’ধারে ছোট ছোট দোকান। কোথাও ঝুলছে রঙিন পুতুল, কোথাও সাজানো মাটির তৈরি নানান জিনিস। আবার কোনও দোকান থেকে ভেসে আসছে ভেষজ বা সুগন্ধির সুরভিত গন্ধ। সব মিলিয়ে বাজারটির পরিবেশ অন্য সাধারণ বাজারের তুলনায় খানিক আলাদা। তবে সোনোরার সবচেয়ে আলোচিত অংশ রয়েছে বাজারের একদম পিছনের দিকে। সেখানে রয়েছে লোকজ চিকিৎসা, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং জাদুবিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বহুল সামগ্রীর দোকান। মেক্সিকোর বহু পুরনো লোকাচারে চিকিৎসা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য সব সময় সুস্পষ্ট নয়। সেই কারণেই একই দোকানে ওষধি গাছের পাশাপাশি তাবিজ বা আচার পালনের নানা সামগ্রীও মিলতে দেখা যায়। এই অদ্ভুত বাজারে পাওয়া যায় অ্যাভোকাডো পাতা, জাকারান্ডা ফুল-সহ নানা ধরনের উদ্ভিদজাত উপকরণ। স্থানীয় কিছু বিশ্বাসে এগুলিকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার উপশমে ব্যবহার করার উল্লেখ আছে। শুকনো সাপ, স্কঙ্ক বা সামুদ্রিক তারামাছের মতো জিনিসও সেখানে বিক্রি হতে দেখা যায়। এগুলির কিছু নিয়ে নানা স্থানীয় চিকিৎসার ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে এই দাবিগুলির চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃতি রয়েছে, এমন কিন্তু একদমই নয়।

শুধু ভেষজ নয়, বাজারে রয়েছে অলৌকিক বিশ্বাসকে ঘিরে তৈরি নানা সামগ্রীও। সৌভাগ্যের জন্য কাঠের তৈরি ক্রশ, অশুভ দূরে রাখার উদ্দেশ্যে রসুনের মালা কিংবা কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ প্রকারের বীজ, এমন অনেক জিনিসই দোকানে থরে থরে সাজানো থাকে। প্রেম, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের সঙ্গে যুক্ত নানা সুগন্ধি, সাবান ও অন্যান্য সামগ্রীও এখানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন রঙের মোমবাতিও সোনোরার অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মোমবাতির রঙের সঙ্গে আলাদা আলাদা অলৌকিক উদ্দেশ্য জড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিক্রি হয় ঘোড়ার নাল, তাবিজ, নানা ধরনের গুঁড়ো, কালো নুন এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক সামগ্রীসমূহ। কিছু দোকানে ‘সেন্ট ইগনেশিয়াসের জল’ নামের একটি দ্রব্যও পাওয়া যায়, যাকে স্থানীয় বিশ্বাসে নানা অলৌকিক কার্যে ব্যবহার করা হয়। বাজারটির জনপ্রিয়তার পিছনে শুধু রহস্যময় পণ্যের ভূমিকা নেই। মেক্সিকোর লোকসংস্কৃতি ও পুরনো বিশ্বাসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগও পর্যটকদের প্রতিনিয়ত এখানে টেনে আনে। সময়ের সঙ্গে বাজারের চেহারা ও পণ্যের ধরন বদলেছে। নানা পরিবর্তন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে সোনোরা। আজ মেক্সিকোর অন্যতম পরিচিত বাজার হিসেবে সোনোরার নাম বিশ্বের দরবারে উঠে আসে। লোকজ চিকিৎসা থেকে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, মেক্সিকোর সংস্কৃতির এক বিচিত্র দিককে একই স্থানে দেখতে পাওয়া যায় এই বাজারে। তাই স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছেও এখনও কৌতূহলের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে রয়েছে ‘মেরসাদো দে সোনোরা’ বিপনন কেন্দ্র।

×
  • CTVN