দীপুরা কাল রাতে ফিরেছে। টুলটুল বৌদির জন্য এনেছে চান্দেরি শাড়ি, পঞ্চানন্দ তালুকদারের জন্য মাওয়া বাটি। দীপুরা কলেজের চার বন্ধু মিলে গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের পাহাড়ি শহর তামিয়ায়। গরম পড়লেই বাঙালি কম বাজেটে উত্তরবঙ্গ বাজেট বেশি থাকলেই কাশ্মীর, হিমাচল খোঁজে। তবে দীপু সে দলে পড়ে না। গরমে যে এখানে পুরোপুরি হিম বাতাস বয় এমনটা নয়। তবে বর্ষায় পরিবেশ মনোরম। চ্যাপ্টা মাথার পাহাড়ে সবুজের অভাব নেই। এখানে ঘড়ির তিনটি কাঁটা যুক্তি করে নিজেদের গতি কমিয়ে দেয়। ভারি শান্ত, বড়ই নির্জন।
তামিয়া আজ থেকে নয় ব্রিটিশদেরও সময় কাটানোর একটি জনপ্রিয় জায়গা ছিল। ব্রিটিশ আমলের কিছু বাংলো আজও বসবাসযোগ্য। দীপুরা তামিয়ায় তিন রাত চার দিন ছিল। এই ব্রিটিশ বাংলো ছাড়াও এখানে বেশকয়েকটি বিলাসবহুল রিসর্টও রয়েছে। তামিয়ায় প্রকৃতির কোলে আপনি। প্রকৃতি দেখতে দূরে কোথাও যাবার প্রয়োজনই পড়বে না। তাও যদি ঘরের আঙিনা ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েন তাহলে জঙ্গল আপনার সঙ্গী হবে। সাক্ষাৎ হবে একাধিক ঝরনার সঙ্গে। পাহাড়ের কোল থেকে উঁকি দেবে সুর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের সূর্য।
দীপুরা যেদিন পৌঁছিয়েছিল সেদিনটা বিশ্রাম নিয়েছিল গোটা দিন। ঘর থেকেই দেখেছিল প্রকৃতি পরের দিন পাতালকোট। চারিদিকে সাতপুরা মাঝে পাতালকোট উপত্যকা। এখানে আসতে হলে সবুজ বনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় মূল শহর থেকে পাতালকোটের দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মত। ছিন্দওয়াড়া জেলায় রয়েছে একাধিক ঝরনা। তামিয়া থেকে ঘুরে আসা যায় ঝিঙ্গরিয়া। বর্ষায় পূর্ণ যৌবন ফিরে পায় এই ঝরনা। এখান থেকে আরও কিছু দূরে গেলে সাতধারা জলপ্রপাত। তামিয়া থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হয় ছোট মহাদেব। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে রয়েছে একটি গুহা। গুহায় পৌঁছতে হলে চড়তে হয় অজস্র সিঁড়ি। পথেই অরণ্য পথেই ঝরনা। পথের শেষে গুহায় মহাদেবের অবস্থান।
তামিয়ার আশেপাশে রয়েছে একাধিক ভিউ পয়েন্ট। দলেল সানরাইজ পয়েন্ট, চিমতীপুর ভিউ পয়েন্ট, ভালচার পয়েন্ট। । তামিয়া থেকে আশি কিলোমিটার দূরে আরও একটি জনপ্রিয় শৈলশহর পাঁচমারির অবস্থান। সেখানে রয়েছে চুনাপাথরের গুহা, পাণ্ডবদের গুহার মত একাধিক দর্শনীয় স্থান। তামিয়া থেকে একশ পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান। জনপ্রিয় উপন্যাস ‘জঙ্গল বুক’-এর লেখক রুডওয়ার্ড কিপলিং এই অরণ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বইটি লিখেছিলেন। পেঞ্চ জাতীয় উদ্যানে জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা আছে। পঞ্চানন্দ তালুকদার রীতিমত হাঁ হয়ে গিয়েছেন। ভারতে এরকম জায়গা আছে নাকি? ওপাশে চান্দেরি সিল্ক পেয়ে খুশিতে ডগমগ করছেন তালুকদার গিন্নি।