Calcutta Television Network

শত বর্ষের প্রাচীন চা বাগান ওপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শত বর্ষের প্রাচীন চা বাগান ওপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা
17 June 2026 05:02:56 pm

অসীম সেন: প্রথমেই বলে রাখা যাক। স্থানীয় গাইড কিংবা বেশ কিছু ভ্রমণ ব্লগ বলে থাকে ১৭৭৬ সালে বাংলার গভর্নর লর্ড অ্যাডাইন অ্যাশলে রাঙ্গারুন চা বাগান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তথ্যে কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে। প্রথম কথা ১৭৭৬ সালে দার্জিলং বা ভারতে বাণিজ্যিক চা চাষ শুরু হয়নি। আর দ্বিতীয় বিষয় হল ওই সময়ে লর্ড অ্যাডাইন অ্যাশলে নামে কোনও গভর্ন ছিলেন না। ১৮৭৬ সালের স্যার অ্যাশলে ইডেন বাংলার দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলে এই চা বাগান তৈরি হতে পারে। তা রাঙ্গারুন চা বাগান যার হাত ধরে যখন খুশি তৈরি হোক না কেন, পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে তৈরি এই চা বাগান শতবর্ষের বেশি সময় ধরে একটা চোখে আরাম পরিবেশ তৈরি করেছে। সবুজ চাদরে মোড়ানো এক অদ্ভুত শান্তি। একদিকে পাইন, ধূপির জঙ্গল অন্যদিকে ১৮০ ডিগ্রি ভিউতে শায়িত কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট অফবিট পাহাড়ি গ্রাম। এখনও পর্যটকের প্রাবল্য এখানকার গাছপালা পাখিদের বিব্রত করে না। দার্জিলিং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গরুনের লেপচা অর্থ মেঘেদের আস্তানা, অথবা মহান নদীর বাঁক। বছরের অধিকাংশ সময়ই গ্রামটি কুয়াশা আর মেঘের চাদরে ঢাকা থাকে। গ্রামের কাছ দিয়ে বয়ে গিয়েছে পাহাড়ি নদী রুংডং। নদীটি সেঞ্চেল অভয়ারণ্য থেকে উৎপন্ন হয়েছে। নদীর পার থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন এক রূপকথার মত। ক্যামেরাবন্দির সুযোগ ছাড়বেন না।


লর্ড কার্জন তখন ভারতের ভাইরসরয়। দার্জিলিং যাবার পথে এই জায়গাটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। এখানে একটি বাংলোও তৈরি করেছিলেন। সেই স্মৃতি আজও অমলিন। সামনেই অভয়ারণ্য। তাই এই গ্রামে পাখিদের আনাগোণা ভীষণ রকমের বেশি। আপনি চাইলে রাঙ্গারুনে সারাদিন অলস ভাবে মেঘ গুণে কাটিয়ে দিতে পারেন। তবে ট্রেকার এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য জায়গাটি কিন্তু জাস্ট স্বর্গ। সেঞ্চেল জঙ্গল দিয়ে ট্রেকিং করে ডিক্লিং বা টাইগার হিলের দিকে যাওয়া যায়। শিলিগুড়ি কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়িতে জোড়বাংলো হয়ে তিনধারিয়া বা সোনাদা রুটে রাঙ্গারুন পৌঁছন যায়। এনজিপি থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। আগেই বলেছে এখানে পর্যটকদের ভীড় নেই বললেই চলে। তাই বিলাশবহুল হোটেল আশা করবেন না। স্থানীয় লেপচাদের তৈরি হোমস্টে আর স্থানীয় খাবার এবং আথিতেয়তা আপনার ঘোরার আনন্দ দ্বিগুণ করে দেবে

×
  • CTVN