ব্যালকনি দিয়ে দু লিটারের বোতল উড়িয়ে দেওয়া হাওয়া এলোমেলো করে দিচ্ছে গোটা ঘর। স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধ এসি। রাত বারোটা বাজে। ঘুম আসছে না। বাইরে ঢেউ আর হাওয়া কোরাস গাইছে। দীঘা আর মন্দারমণি এখন ভীষণ ভাবে ক্রাউড পুলার। চারিদিকে গিজগিজ করছে মানুষ, হকার হেঁকে যাচ্ছে লেবু চা, ঝুটো মুক্তো আর ঝিনুকের সরস্বতী নিয়ে। এর থেকে চাঁদপুর যেন একটি নিজস্ব সমুদ্র সৈকত।
বালেশ্বরে আর একটি চাঁদিপুর আছে তবে এটি চাঁদপুর। কলকাতা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ধর্মতলা থেকে বাসে বালিসাই মোড়, সেখান থেকে টোটো। ট্রেনে করে যেতে হলে নামতে হবে কাঁথি স্টেশনে। দিঘাতে নেমেও যেতে পারেন। ভোরের বেলায় দুটি অফশন থাকবে। হয় হোটেলের নরম বিছানায় ঘুমাতে থাকুন, অথবা কালচে নীল জল কুসুম সূর্য দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন সৈকতে। গোটা সমুদ্র সৈকত তখন লাল আলপনা। মনে হতেই পারে কাঁকড়াদের ব্রিগেড সমাবেশ।
ঝিনুক কোড়াতে কোড়াতে অনেকটা দূর যাবার পর হঠাৎ সম্বিত ফিরবে। মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। ইউক্যালিপটাস আর ক্যাসুরিনার জঙ্গলে কিছুটা সময় কাটিয়ে এবার ফিরে আসার পালা। দুপুরে খাওয়াটা সারবেন হোটেলেই। সাগর পারে এসে কাঁকড়া সামুদ্রিক মাছই ভালো। চিকেন, মটন তো ভবানীপুরেও পাওয়া যায়। দুদিন বিন্দাস সময় কাটিয়ে ফিরে আসুন প্যাভিলিয়নে। আবার ব্যাট ধরতে হবে তো।