×

Calcutta Television Network

চলুন ঘুরে আসি নিজামের শহরে

চলুন ঘুরে আসি নিজামের শহরে

5 June 2026 , 01:23:17 pm

অসীম সেন: পুজোর ছুটিতে ঘুরতে নাকি চিকিৎসা। ইদানিং গ্যাস্ট্রোর সমস্যায় ভুগছেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। বয়স তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। অথচ ডাক্তারের পিছনে দৌঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে চাইছেন না। মুশকিল আসান দীপু সহজ সমাধান করে দিল। হায়দ্রাবাদ এআইজি হাসপাতাল গ্যাস্ট্রো এন্ট্রোলজি বিভাগে ভারত সেরা। আর নিজামের শহরে গেলে মিলবে প্রকৃতি আর ইতিহাসের মেলবন্ধন। মুসি নদীর তিরে তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদ। গোলকন্ডার সম্রাট কুতুব শাহ ১৫৯১ সালে এই শহরটির পত্তন করেন। আগে এই শহরের নাম ছিল ভাগ্য নগরী। হায়দ্রাবাদের যমজ শহর সেকেন্দ্রাবাদ। দুই শহরের মাঝে রয়েছে হুসেন সাগর। কোনও জায়গা সম্পর্কে জানতে দীপু বেস্ট অপশন। ইতিহাস-ভূগোল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রয়েছে ছেলেটার। ফলকনামা এক্সপ্রেস সরাসরি সেকেন্দ্রাবাদ যায়। ইস্টকোস্ট এক্সপ্রেস ও ভালো চয়েস। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি হায়দ্রাবাদ ভ্রমণের সেরা সময়। হায়দ্রাবাদ এ বাজেট ফ্রেন্ডলি হোটেল একটা খুঁজে নেবেন, দয়া করে দালালের পাল্লায় পড়বেন না। দু থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে চলনসই একটা হোটেল পেয়ে যাবেন।


শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বিস্ময়কর খিলান চারমিনার। এটিও হয়েছিল মহম্মদ কুলি কুতুবের সময়েই। চারমিনার স্থাপনের পিছনে একটি গল্প প্রচলিত আছে। তখন গোলকোন্ডায় প্লেগ মারাত্মক মহামারীর আকার নিয়েছিল। সুলতান প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মহামারী দূর হলে তিনি একটা বিশাল মসজিদ তৈরি করবেন। সেই প্রতিজ্ঞার ফল চারমিনার। ৫৬ মিটার উঁচু চারটি মিনার সহ চৌকোন তোরণ। চারমিনারের কাছেই রয়েছে মক্কা মসজিদ। এই মসজিদ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদের মধ্যে পড়ে দশ হাজার মুসল্লী একসঙ্গে এখানে নমাজ আদায় করতে পারেন। সপ্তাহে কটা সিনেমা দেখেন? দীপুর প্রশ্নে এবার অপ্রস্তুত টুলটুল বৌদি। সিনেমা দেখাটা নেশা নয় রীতিমত অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন মিসেস তালুকদার। আপনার দেখা অধিকাংশ সিনেমাই তৈরি হয়েছে রামোজি ফিল্ম সিটিতে। কী নেই? রেলস্টেশন, কলকাতার গলি, চেন্নাইয়ের রেস্তোরাঁ, রূপকথার রাজপ্রাসাদ সব সব। প্রতিদিন সকাল নটা থেকে বিকেল সারে পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে। টিকিটের খরচ দেড় হাজার থেকে শুরু। একটা গোটা দিন রাখবেন রামোজি ফিল্মসিটি দেখার জন্য। হায়দ্রাবাদের সালারজং যাদুঘর বিশ্বের একক বৃহত্তম সংগ্রহশালা যেখানে ৩৫ টি রুমে প্রায় ৩৫ হাজার সংগ্রহ স্থান পেয়েছে। দেখবেন গোলকুন্ডা দুর্গ।


দেশের সবথেক সুন্দর এই দুর্গ। এটি কুতুব শাহীর রাজত্বে তৈরি মনে করা হলেও অন্য মতে এটি কাকাত্যিয় শাসকদের সময়ে তৈরি। এই দুর্গ বিজ্ঞানের একটি বিস্ময়। দুর্গের দরজায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে সেই আওয়াজ শোনা যায় পাহাড়ের ওপর বসা রাজার সিংহাসন থেকে। দুর্গের পাঁচিল ঘেষে রয়েছে কুতুব শাহী শাসকদের সমাধি। হায়দ্রাবাদেই রয়েছে দেশের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা গুলির অন্যতম নেহরু জ্যুলজিক্যাল পার্ক। চিড়িয়াখানায় প্রচুর জীব জন্তু দেখার পাশাপাশি করতে পারেন সিংহের সাফারি। দেখতে পারেন বিড়লা মন্দির। মন্দিরটি পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। এখান থেকে পড়ন্ত বিকেলে হুসেন সাগর এক অসাধারণ দৃশ্য। হুসেন সাগরের মাঝখানে বুদ্ধের মনোলিথিক স্ট্যাচু। হুসেন সাগরের পাশেই রয়েছে লুম্বিনী পার্ক। মোটামুটি চার-পাঁচদিন সময় হাতে করে যাবেন। আর আপনিতো রীতিমত মাংসাশী মানুষ তা ওখানে গিয়ে বিরিয়ানি আর পাথর কা গোস্ত খেতে ভুলবেন না। একটানা বলে কফির কাপে চুমুক দিল দীপু।

0 0 3

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN