রাত্রি এগারোটা বাজে। হলুদ বালির ওপর রূপোর থালার মত চাঁদ লুটোপুটি খাচ্ছিল। মরুভূমিতে অক্টোবরের রাতে বেশ ঠাণ্ডা। গায়ে চাদর দিতে হয়। একটা টিনের চেয়ার নিয়ে মরুভূমির বালির ওপর বসতে ইচ্ছে করছিল অর্কর। তাঁবুর ভিতর ফ্লাস্কে গরম জল ছিল। এক চামচ এসপ্রেসো দিয়ে বাইরে বসল। চোখের সামনে তেমন কোনও বাধা নেই। চাঁদের আলোয় দুটি উট অনেকটা আরব্য রজনীর ফিল দিচ্ছিল। থর মরুভূমির বুকে তাঁবুতে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতাই আলাদা। দুরকম ব্যবস্থা করতে পারেন। বেসরকারি হলে খরচ বেশ খানিকটা বেশি। সরকারি ব্যবস্থা হলে খরচ খুব একটা বেশি নয়।
এই মুহূর্তে থর মরুভূমিতে রাজস্থান সরকারের পর্যটন দফতরের মোট আঠারোটি তাঁবু আছে। প্রতিদিনের খরচ পাঁচ হাজার টাকা। চার জন পূর্ণবয়স্ক এবং একজন শিশু থাকতে পারে এক একটা তাঁবুতে। বেসরকারি তাবুগুলির মতো রাজসিক নয়, তবে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে কয়েকদিন কাটানো যায়। দিনের বেলায় বালির সমুদ্র ঘুরে দেখতে গাড়ি কিংবা উট রয়েছে। চারিদিকে শুধু বালি কোথাও শুরু নেই কোথাও শেষ নেই। মাঝে মধ্যে কয়েকটি খেজুর বা কাটা জাতীয় ঝোপ।
পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখেছেন, সমুদ্রেও দেখেছেন নিশ্চই তবে মরুভূমির সূর্যাস্ত যেন ইল্যুশন অপটিক্যাল। চোখে ধাঁধা লাগায়। এবার আসা যাক খাবারের কথায়। প্রতি চার-পাঁচটা তাঁবু পিছু একটি করে রেস্তোরাঁ আছে। আছে হরেক রকম শরবত। খাবারের দামও রিজনেবল। লোকাল ফুড ট্রাই করতে পারেন, যদি আপনি স্পাইসি খাবার খেতে পছন্দ করেন। দুদিন মরুভূমির বুকে কাটিয়ে আপনার রাজস্থান প্ল্যান সম্পূর্ণ করতে পারেন।