চোখের সামনে মোবাইলের ২০ মেগা পিক্সেলে ধরা পড়ছে নাথুলা রেঞ্জ এবং জোরথাং। আপনাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে মেঘ। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ে এখন সোনা রোদ ঝলমল করছে। চিসাং ভ্যালি। কালিম্পংয়ের কাছে অফবিট ডেস্টিনেশন। এখানে জিও, ভোদাফোন কিংবা এয়ারটেল সব মূল্যহীন। তিনদিন সম্পূর্ণ অন্তর্জাল ছাড়া। চলমান দূরভাষ অকেজো।
আপনাকে পিপিটি প্রেসেন্টেশন চাইবে না কোনও এক বিরক্তিকর গলা। চিসাং ভ্যালি থেকে জোরে চেঁচালে ভুটান পাহাড়ে প্রতিধ্বনি হয়। কালিম্পংয়ের এই দিকটায় পর্যটক কমই আসে। কালিম্পং থেকে গরুবাথান হয়ে চালসা। সেখান থেকে চাপরামারি ফরেস্টের মধ্য দিয়ে ২০ কিলোমিটার। চিসাং ভুটান সীমান্তে থাকার কারণে এখানে সময় আধঘণ্টা এগিয়ে। সকালে হোমস্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কফি মগ হাতে দাঁড়িয়ে আপনি। একটু দূরে কাপড় মেলার তারে দুটি পাহাড়ি ময়না।
ইতিমধ্যে ব্রেকফাস্ট রেডি। দুটি টোস্ট আর একটা ডিম সিদ্ধ খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন জিরো পয়েন্টে। দু দেশের সীমান্ত মিশে গেছে নিজের মত করে। পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ দেখাযায় এখান থেকে। ফেরার সময় একটু সময় কাটিয়ে যান মূর্তি নদীর পাড়ে। ঘুরে নিতে পারেন স্থানীয় তোদে বাজার কিংবা টাংটা মঠ। এখান থেকে ঝালং-বিন্দু, দলগাঁও কাছেই। ঘুরে আসতে পারেন সময় করেন। চিসাংয়ের নিকটতম রেলস্টেশন নিউ মাল জংশন। নিউ মাল জংশন থেকে চিংসা যেতে লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। চিসাং এ তেমন ভাবে হোটেল মিলবে না। ভরসা হোমস্টে। তবে এখানকার বেশীরভাগ মানুষ খুবই অতিথি পরায়ণ। চিসাং ভ্রমণের সেরা সময় শীতের শুরু। কিংবা বসন্ত। বর্ষায় চিসাং এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।