Calcutta Television Network

একবার অন্তত ঘুরে আসুন কেঁদুলীর মেলায়

একবার অন্তত ঘুরে আসুন কেঁদুলীর মেলায়

24 November 2025 , 06:59:22 pm

জয়দেব কহে শুনো গিরিধর তোমার মিলন হৈতে,

রাধার এতেক বিরহ বেদন দূর কর কোনও মতে 

বাউল তাঁর একতারায় সুর বাঁধতে বাঁধতে গুণগুণ করতে লাগল। প্রতিবছর একই ছবি। কেঁদুলীর মেলা যেন এক বাউল তীর্থক্ষেত্র। লাল মাটির সরানে অজয়ের তীরে জয়দেবের জন্মস্থান। প্রতিবছর মকরসংক্রান্তিতে এখানে হাজির হয় আউল বাউল যত গান পাগলেরা। প্রায় পাঁচ ছশো বছর ধরে কেঁদুলিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বাউল মেলা।


বহুদিন ধরেই যাবার ইচ্ছে। কিন্তু কোনওবারেই যাওয়া হয়ে ওঠেনি। গেল বার গঙ্গাসাগরে স্নান করে টুলটুল বৌদির মনের জোর বেড়েছে। এবার তাই কেঁদুলী মাস্ট। এ মেলায় বৈষ্ণব হিন্দু ও সুফি মুসলিম মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সকল ছাপিয়ে ভেসে যায় প্রেম। গোপীযন্ত্রের সুরে প্রেম ভক্তি বাধন ছেঁড়ে। এমনিতে পঞ্চানন্দ তালুকদারের খুব প্রেম পায়। টুলটুল বৌদির মুখে আদিখ্যেতা, মরণ এ ধরণের কথা শুনতে শুনতে বলে ওঠেন মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান।


প্রতিবছর লাখ লাখ লোক এসে হাজির হয় এই মেলায়। মেলা চলে তিনদিন। শুরুর আগের দিনটি হল আগমন বা উৎসবের সূচনা। প্রথম দিনে অজয় নদীতে পবিত্র স্নানের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। তারপর বাউল ও কীর্তনীয়ারা তাদের আখড়ায় গান গায়। চলতে থাকে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত। তৃতীয় দিনে বাউল এবং কীর্তনীয়ারা একে অপরের আখড়া পরিদর্শন করেন। চতুর্থ এবং শেষ দিনটিকে বলা হয় ধুলাট। বাউলরা মনে করেন সবের পরিণতিই শেষ পর্যন্ত ধুলো। শেষ দিনে আবির খেলা হয়। একে অপরে আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে মেলার সমাপন ঘটে।


তালুকদার দম্পতি প্রথমে ভেবেছিলেন মেলাতেই থেকে যাবেন, অথবা ঠাঁই নেবেন গ্রামের কোনও আশ্রমে। কিন্তু শেষপর্যন্ত প্ল্যানটা মডিফাই করেছেন। শান্তিনিকেতনে নেমে কেঁদুলীতে যাবেন। তবে থাকার ব্যবস্থা গুরুদেবের ঠাঁই অর্থাৎ শান্তিনিকেতনে। এখন থেকেই বাউল রসে ভাসছে তালুকদার দম্পতি। গদগদ হয়ে টুলটুল বৌদিকে বলে বসলেন দেহি পদপল্লবমুদারং

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN