Calcutta Television Network

এখানে পাহাড় রঙ বদলায়, হাওয়ায় ভাসে শিবনাম

এখানে পাহাড় রঙ বদলায়, হাওয়ায় ভাসে শিবনাম

16 December 2025 , 01:19:39 pm



অসীম সেনঃ প্রথমেই বিষম। এ ছেলে বলে কী? অ্যাড্রেনালিন কিক চাইলে ঘুরে আসুন কিন্নর কৈলাস। ঘুরতে ভালোবাসেন তালুকদার দম্পতি। অন্যদিকে দীপু পড়ছে Bachelor of Tourism and Travel Management। এরকম পড়াশোনাও যে থাকতে পারে ধারণা ছিল না। দীপু ছোড়াটা ভারত এবং বিশ্ব সম্পর্কে বেশ চৌখশ । ওর থেকে ঘুরতে যাবার আগে প্রয়োজনীয় টিপস নিয়ে থাকেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। পছন্দও করেন ছেলেটাকে। গত বছর বেশ কিছু জায়গা ঘুরে এসেছেন সস্ত্রীক পঞ্চানন্দ তালুকদার। এবার কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন ঠিক করেছেন। ফের গরমের ছুটিতে বেড়োবেন। তা কোথায় যাবেন তা নিয়ে আলোচনায় দীপু কিন্নর কৈলাসের বোমটা ফাটাল।


দীপু আসলেই স্পেশাল কিছু রান্না করেন টুলটুল বৌদি। আজকের সন্ধ্যার টিফিনে ছিল ভার্মিসেলি উপমা। নারকোলের চাটনির জায়গায় দই দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। টুলটুল বৌদি ইউটিউব দেখে বানিয়েছেন। নিজেকে কেমন যেন গিনিপিগ মনে হচ্ছিল পঞ্চানন্দ তালুকদারের। দীপু অবশ্য নির্বিকার মুখে কৈলাস বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। মোট পাঁচটি কৈলাস রয়েছে কিন্নর কৈলাস , কৈলাস মানসসরোবর, আদি কৈলাস, মণি মহেশ কৈলাস এবং শ্রীখণ্ড মহাদেব কৈলাস। হিমাচল প্রদেশের একটি পর্বত কিন্নর কৈলাস। উচ্চতা ৬০৫০ মিটার। তিব্বতের কৈলাস পর্বতের সঙ্গে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন কিন্তু এটি কিন্নর জেলার সীমায় অবস্থিত। এখানেই রয়েছে চারাং লা হিমাচল প্রদেশের অন্যতম কঠিন ট্রেক। কিন্নর কৈলাস একটি বিশাল একশিলা স্তম্ভ।  পুরাণ অনুসারে ভস্মাসুর নামে এক রাক্ষস শিবের কাছে বর পায় যে সে যার মাথায় হাত রাখবে সে ভস্ম হয়ে যাবে। বরপ্রাপ্তি হলে রাক্ষস শিবের মাথাতেই হাত রাখতে চায়। শিব তার হাত থেকে নিস্তার পেতে এখানে শিলারূপে লুকিয়ে থাকেন। ইতিমধ্যে বিষ্ণু মোহিনীরূপে ভস্মাসুরকে হত্যা করে। এছাড়াও কিন্নর কৈলাসকে ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর বিশ্রামস্থান বলে মনে করা হয়। কবি  কালিদাস কিন্নরের কিন্নরদের সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেছেন।  মেঘদূতে কিন্নরদেরকে সুরেলা কণ্ঠের আকর্ষণীয় মানুষ হিসেবে চিত্রিত করেছেন যারা ভগবান কুবেরের রাজসভায় গান গেয়েছিলেন এবং নৃত্য করেছিলেন। শিব পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ, মৎস্য পুরাণ, রামায়ণ এবং রাজতরিংণী সহ বিভিন্ন সাহিত্যে কিন্নরদের উল্লেখ রয়েছে। 


 কিন্নর কৈলাস ট্রেকে পাবেন তুষারঢাকা পাহাড়, মনোরম সবুজ উপত্যকা এবং প্রবাহিত নদী। কিন্নরে বিশাল শিবলিঙ্গ রয়েছে যা একটি পাথরের স্তম্ভ যা ত্রিশূলের মত একটি পাথরের ওপর ব্যালেন্স করে রয়েছে। গোটা দিনে নানাভাবে রঙ পাল্টায় এই কৈলাস। কাছেই রয়েছে পার্বতী কুণ্ড। পার্বতী কুণ্ডের কাছে গণেশ বাগ।  এই স্থানকে আশিকী পার্ক নামেও ডাকা হয়, কারণ এটিই ছিল ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর মিলনস্থল। কিন্নর কৈলাশ তেকে দেখতে পাবেন রালডাং, জোড়কানডেন এর মত শৃঙ্গগুলি। এবার প্রশ্ন হচ্ছে কিন্নর কৈলাস পৌঁছবেন কী করে? এই ট্রেক কম্প্লিট করার তিনটি রাস্তা আছে।  ট্যাংলিং থেকে যাত্রা শুরু করে মালিং খাতা মেডোস হয়ে গুফা সেখান থেকে পার্বতী কুণ্ড এবং শেষে কিন্নর কৈলাস । এছাড়াও রিব্বা গ্রাম এবং পূর্বাণী গ্রাম থেকেও ট্রেক শুরু করা যায়। তিনটি ভিন্ন রাস্তা থেকে ট্রেকাররা পার্বতীকুণ্ডে এসে পৌঁছন। কিন্নরে সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই। দিল্লি পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেকান থেকে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা দূরে কিন্নরের সবথেকে কাছের স্টেশন হল কালকা। সেখানথেকে বাস কিংবা চারচাকা।


টাংলিং পর্যন্ত যেতে পারবেন চারচাকায়। সিমলা থেকেও ছ-সাত ঘণ্টা গাড়িতে যাওয়া যেতে পারে টাংলিং। এখানে শতদ্রু ও টাংলিং নদীর সঙ্গমস্থল দেখা যায়, এখানকার আপেল বাগান এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের এক দেশে।  কিন্নর যাবার সেরা সময় হল মে, জুন, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর। বর্ষা এবং শীত এড়িয়ে চলবেন। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কেউ এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যাত্রায় আপনাকে যেতে হবে সাংলা এবং হাংরাং উপত্যকার মধ্য দিয়ে। সাংলা বাসপা নদীর তীরে অবস্থিত এবং এটি একটি  পাহাড়ি গ্রাম যা প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য বিখ্যাত, অন্যদিকে হাংরাং উপত্যকাটি সাংলা উপত্যকার আগে অবস্থিত এবং এটিও ইন্দো-তিব্বতীয় সীমানায় অবস্থিত একটি মনোরম স্থান।


  টাংলিং থেকে ট্রেকটি মোট ১৪ কিলোমিটার। টাংলিং থেকে মালিং খাতা ৮ কিলোমিটার সেখান থেকে পারবতী কুণ্ড ৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে কিন্নর কৈলাসের শিবলিঙ্গ ১ কিলোমিটার। সিমলা থেকে সিমলা সফর সাধারণত পাঁচ দিন চার রাতের হয়ে থাকে। গোটাটা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। মোবাইলের স্ক্রিনে ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন কিন্নর কৈলাসের ছবি। দীপের কথা শেষ হতে না হতে একটি বিমর্ষ ভাবে বললেন, তোমার বৌদির আবার ঠাণ্ডায় শ্বাস কষ্ট হয়। কিন্নর কৈলাস যাওয়াটা বোধহয় একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। এ সব তোমাদের মত ছেলে-ছোকরাদেরই মানায়। দীপ আর কথা বাড়ালো না।

 







 

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN