অসীম সেন: নকুড়বাবুর যেমন চিন্তাহরণ বাবু রয়েছে। আমাদের পঞ্চানন্দ বাবুরও তেমন একজন সিধু জ্যাঠা আছে। সেখান থেকেই জানলেন তানজানিয়ায় নাট্রন নামে একটি লেক রয়েছে যে জলের সংস্পর্শে আসা যেকোনও প্রাণি বা পাখি পাথর বা মমি হয়ে যায়। এমনধারা অবাক তথ্য পড়ে মুখ হাঁ হয়ে গেল তালুকদার বাবুর। দীপুকে বললেন সন্ধ্যার টিফিন করতে করতে। দীপু নির্লিপ্ত ভাবে বলল নাট্রন লেকের নাম জানে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। বলেই বলল সামনে তো কাজের চাপ কম। আমাদের দেশেও একটা হ্রদ আছে যাকে বলা হয় মণিপুরের হৃদয়। ঘুরে আসতে পারেন। নড়েচড়ে বসলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। এমনিতে ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বহু সুন্দর সুন্দর লেক রয়েছে। কিন্তু মনিপুরের লোকটাক লেক সকলের থেকে আলাদা। এই হ্রদের উপর রয়েছে আস্ত একটা জাতীয় উদ্যান।
ঢোক গেলা ছাড়া পঞ্চানন্দ তালুকদার আর কীই বা করতে পারেন। ভারতের সবথেকে বড় মিষ্টি জলের হ্রদ লোকটাক। মণিপুরের মৈরাংয়ে অবস্থিত। ইম্ফল থেকে মেরেকেটে ৪০ কিলোমিটার দূরে ২৮৬ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই হ্রদ। হ্রদের ওপর কেইবুল লামজাও জাতীয় উদ্যান। এখানেই দেখা মেলে সাংহাই প্রজাতির হরিণ। জলের ওপর গাছপালা। স্থানীয় ভাষায় ফুমডি। ফুমডিগুলির ওপর হোমস্টেও রয়েছে বেশ কয়েকটা। মরসুমে লোকটাকের বুকে যখন পদ্ম ফোটে, গোটা লোকটাক সেজে ওঠে গোলাপি সাজে। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই হ্রদ। দিনভর পাখিদের আনাগোনা। সবুজের ছায়া পড়ে হ্রদের জলে। তিনদিনে ঘোরা যায় লোকটাক। ইম্ফল থেকে সড়ক পথে লোকটাক যেতে মেরেকেটে একঘণ্টা সময় লাগবে। জলের ওপর হোমস্টে ।
হোমস্টে থেকেই উপভোগ করুন হ্রদের সূর্যাস্ত। পরের দিন কাটাবেন কেইবুল লামজাও জাতীয় উদ্যানে। চাই কি সময় বুঝে লোকটাকে মাছ ও ধরতে পারেন। এই দিনও ফুমডিতে রাত কাটিয়ে পরের দিন মৈরাং ঘুরে ফিরে যান ইম্ফলে। পিঁয়াজিতে কামড় বসিয়ে পঞ্চানন্দ বাবু জিজ্ঞাসা করলেন তা ভায়া খরচ কত পড়বে। দীপুর সংক্ষিপ্ত উত্তর। ইম্ফল যাওয়া আসার খরচ আপনি জানেন। গাড়িতে যাওয়া আসা মোটামুটি ভাবে আপনাদের দুইজনের ধরে রাখুন হাজার ছয়েক। ফুমডিতে কিংবা সেন্দ্রা আইসল্যান্ডে হোমস্টেতে চারবেলা কবজি ডুবিয়ে খেয়ে খরচ পারহেড দেড় থেকে দুহাজার। পাটিগণিতের অঙ্ক, বাকিটা করে নেবেন।