মন্দাসারু কোথায় বলতে পারবেন? দীপুর হঠাৎ প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন তালুকদার বাবু। আমতা আমতা করে বললেন মাসাইমারার আশে পাশে কোথাও? আজ্ঞে না। মুখ বেঁকিয়ে জানাল দীপ। তাহলে বোধহয় মঙ্গোলিয়ার দিকে? মন্দাসারু হল ওড়িশার কান্ধামাল জেলার ফুলবানির কাছে। তা হঠাৎ করে মন্দাসারু নিয়ে পড়লে কেন? আরে আপনিই তো বললেন কাছে পিঠে অফবিট কোনও জায়গার খবর দিতে। এবার রীতিমত উৎসাহী পঞ্চানন্দ তালুকদার। বললেন কী আছে মন্দাসারুতে?
একটি আদ্র পর্ণমোচী গভীর বন। এতটাই গভীর যে সূর্যের আলো এখানকার মাটি ছোয়ার অনুমতি পায় না। চারিদিকে হাজার পাখি আর প্রজাপতি। পাহাড় রয়েছে, পাহাড়ের কোলে গভীর গিরিখাত রয়েছে। জঙ্গলে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণ। বাড়ি থেকে দু পা ফেলে এর থেকে আর বেশী কী চাই বলুন তো? বাঙালি এখন অফবিট খুঁজতে ভালোবাসে। পুরী দিঘা দার্জিলিং ছেড়ে নজর পড়েছে সিমলিপাল কেওনঝড়ের মত জায়গার দিকে। সেগুলিও আর ভার্জিন নেই মোটে। এমন বাঙালীর জন্য় ফুলবনি মন্দাসারু নট ব্যাড।
ইউটিউবার দের দৌলতে দারিংবাড়ির নাম শোনা হয়ে গেছে নিশ্চই। ওড়িশার কাশ্মীর। দারিংবাড়ি থেকে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ফুলবনি। দারিংবাড়ি যেতে একদিনের জন্য যেতেই পারেন ফুলবনি। ফুলবনির সৌন্দর্য বুনো গন্ধ মেশা। ঘন জঙ্গল আর বড় পাথরে ঘেরা এই অঞ্চল। মূল আকর্ষণ পুতুদি জলপ্রপাত।
শলাঙ্কি নদীই এখানে জলপ্রপাতের আকার ধারণ করেছে। পুতুদির কাছে যেতে হলেও আপনাকে পেরোতে হবে ঘন জঙ্গলের রাস্তা। ফুলবনি থেকে দারিংবাড়ি যাওয়ার পথে পরে মন্দাসারু। এখানে পাখির ডাক আর জলপ্রপাতের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায়না। এর নিস্তব্ধতার জন্য গোটা উপত্যকা সাইলেন্ট ভ্যালি নামে পরিচিত।
কাছে পিঠে রয়েছে ওড়িশা পর্যটনের কটেজও। হাওড়া থেকে ব্রহ্মপুরের টিকিট কাটুন সকালে নেমে স্থানীয় গাড়ি বুক করে দাড়িংবাড়ি ফুলবনি ও মন্দাসারু প্ল্যান করে নেবেন। খরচা পারহেড সবকিছু মিলিয়ে আট হাজারের মধ্যে হয়ে যাওয়া উচিত। দীপুর কথা শুনে আগে ঠকেননি পঞ্চানন্দ তালুকদার। তাই এবারে শীতে ওদিকটা একটু ঘুরেই আসা যায়।