অসীম সেনঃ আকাশ ছোঁয়া হলুদ কার্পেটের মত সর্ষে ক্ষেত। ম্যান্ডোলিন বাজাচ্ছেন নায়ক। নায়িকার চোখে অবাক প্রেম। উভয়ের মিলনে সিনেমা হলে সিটি, খুঁজরো পয়সার বৃষ্টি। এমন সরষে ক্ষেত, এমন নীল আকাশ, এমন উদ্দাম প্রেম, এ তো শুধু পাঞ্জাবেই সম্ভব। কয়েকদিন ধরেই টুলটুল বৌদিকে সিমরন মনে করছেন পঞ্চানন্দ রাজ তালুকদার। রাজ নামটার সঙ্গে কোথায় যেন একটা মনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতে দুজন মাঝবয়সী রোমিও জুলিয়েট চলেছেন পাঞ্জাবে। চারপাশে জম্মু-কাশ্মীর,হরিয়ানা,হিমাচল,রাজস্থান। মাঝে পাঞ্জাব সংস্কৃতি ঐতিহ্য ইতিহাসের আকর।
পাঞ্জাবের কথা লেখা রয়েছে ঋগ্বেদেও। তখন অবশ্য এর পরিচিতি ছিল সপ্ত সিন্ধু। সাতটি নদীর দোয়াব অঞ্চল পাঞ্জাব। জমিতে সোনা ফলে। একসঙ্গে দুর্গ, প্রাসাদ, স্মৃতি স্তম্ভ, রঙবেরঙের পোষাক, স্পাইসি খাবার, জাম্বো গ্লাসে লস্যি আর কী চাই। হাওড়া থেকে অমৃতসর যাবার অগুণতি ট্রেন আছে। তালুকদার দম্পতি বেছে নিয়েছিলেন 13005/Howrah - Amritsar Mai। ২৪ ঘন্টা দুজনে কুজনে প্রেম ছড়িয়ে গেল সেকেন্ড এসির কামরায়। পাঞ্জাবে যে দুর্গ গুলি পর্যটকদের নজর কাড়ে, সেগুলি হল গোবিন্দগড় দুর্গ, রামবাগ প্রাসাদ, কিলা মুবারক, পুরাতন মতিবাগ, মহারাজা শের সিং প্রাসাদ এবং অবশ্যই বাহাদুরগড় ।
ফিল্লাউর দুর্গ এককালে মহারাজা রঞ্জিত সিংহের সামরিক ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের অধ্যায় গুলিতে চোখ বোলালে বাংলার পরেই পাঞ্জাবের নাম উঠে আসবে। জালিয়ান ওয়ালাবাগ আজও পরাধীন ভারতের সেই আগুন পাখিদের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯১৯ সালে বৈশাখীর ঠিক পরের দিন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়ানওয়ালাবাগের ময়দানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছিল। হঠাৎ গেট বন্ধ করে সৈন্য দিয়ে ষোলশ রাউন্ডের বেশী গুলি চালান জেনারেল ডায়ার। সেদিনের নিরীহ মানুষদের রক্তে লাল হয়েছিল জালিয়ানওয়ালাবাগের জমি। দেওয়ালের গায়ে আজও রয়ে গিয়েছে বুলেটের ক্ষত। সেই কুঁয়ো, প্রাণ বাঁচাতে ঝাপ দিয়েছিল অসংখ্য পুরুষ মহিলা। একটু থমকে দাঁড়ালেন তালুকদার দম্পতি। চোখের কোণটা কেমন যেন চিকচিক করে উঠল টুলটুল বৌদির।
অমৃতসর এলে অবশ্যই দেখতে হবে স্বর্ণ মন্দির। মূল মন্দিরের গম্বুজ সোনার পাত দিয়ে ঢাকা। রয়েছে পৃথিবীর সবথেকে বড় লঙ্গরখানা। হাজার হাজার মানুষ নিত্য এখানে প্রসাদ পান এবং স্বেচ্ছায় শ্রম দান করেন। পাঞ্জাব থেকে ওয়াঘা বর্ডারের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। ভাড়ার গাড়ি নিতে হবে এমন মাথার দিব্যি দেওয়া নেই। এখানকার বাস সার্ভিস যথেষ্ট আরামদায়ক।
ওয়াঘা একটি শান্ত জনপদ। ওয়াঘা সীমান্ত অনুষ্ঠানের জন্য বিখ্যাত।ওয়াঘার সূর্যাস্ত দেখে। রাস্তার ধাবাতেই খেয়ে নিতে পারেন সরসোঁ দা সাগ ও মাক্কি দি রোটি অথবা টেস্ট করতে পারেন বৈসান কি রোটি সঙ্গে পনির টিক্কা। পঞ্চানন্দ তালুকদার বরাবর খাদ্য প্রেমী মানুষ। তিনিও পর্যন্ত স্বীকার করলেন। এখানকার পনির টিক্কা গোলবাড়ির কষা মাংসকেও বলে বলে তিন গোল দেবে। পাঞ্জাবের জাদুঘর আপনাকে ইতিহাসের সফর করাবে। এখানে রয়েছে মহারাজা রঞ্জিত সিংহের তরবারি এবং ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিশপত্র। সময় করে দেখে নেবেন এখানকার জ্যুলজিক্যাল গার্ডেন। সিমলা আগে অবিভক্ত পাঞ্জাবের অংশ ছিল । এখন হিমাচল প্রদেশের রাজধানী । পাঞ্জাব থেকে সড়ক ও রেলপথে সিমলার ভালো যোগাযোগ আছে, বিশেষত চণ্ডীগড় বা অমৃতসর থেকে সহজেই সিমলা যাওয়া যায়। আপনার প্ল্যানে সিমলা রাখতেই পারেন।সিমলা যাবার পথে কিংবা সিমলা থেকে ফেরার সময় ঘুরে নিতে পারেন পাঞ্জাব।