Calcutta Television Network

এবার না হয় শীতেই ঘুরে এলেন পুরী

এবার না হয় শীতেই ঘুরে এলেন পুরী
13 January 2026 12:09:08 pm

জগন্নাথ দেবের পশ্চিম দেওয়ালের কাছে বেণুমাধবের সামনে উল্টো করে বাঁধা আছে দেবী একাদশীর বিগ্রহ। জানুয়ারির শীতে তুরস্ক, মিশর, অ্যারিজোনা সবকিছু প্ল্যান করে শেষ পর্যন্ত সস্ত্রীক পঞ্চানন্দ তালুকদার এসেছেন পুরীতে। একে শীতকাল। জমিয়ে ঠাণ্ডা। সমুন্দর পে নাহাকে অরভি নমকিন হবার কোনও চান্স নেই। আবার জগন্নাথ জগন্নাথ করে কেঁদে ভাসাবেন এমন ভক্তিও নেই। বউ এর কথায় শনিবার নিরামিষ খান বটে, কিন্তু অফিস ফেরতা মিত্রক্যাফের ব্রেইন চপ খেয়ে কোটা পূরণ করেন। শীত সকালে গিজারের জলে কাক স্নান করে ধুতি পাঞ্জাবী আর শাল চড়িয়ে সস্ত্রীক এসেছেন জগন্নাথের মন্দিরে পুজো দিতে। এখন পুজো দেবার পদ্ধতি অনেক গোছানো। পাণ্ডাদের অহেতুক জোরজুলুম নেই। হোটেল থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে বাসুদেবকে। বাসুদেবের বাবা একজন তালছ মহাপাত্র। মানে  মন্দিরের অভ্যন্তরীণ সেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত।


বাসুদেবই দেখালো জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো করে বাঁধা একাদশীর বিগ্রহ। শুনতে আগ্রহ বোধ করলেন তালুকদার দম্পতি। একাদশী দেবী হলেন ভগবান বিষ্ণুর এক অনন্য শক্তি। ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীবিষ্ণু ভয়ংকর মুর অসুরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। দীর্ঘ যুদ্ধের পর বিষ্ণু বিশ্রাম নিতে শয়ান হলেন। তখন মুর ভগবানকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। সেই মুহূর্তে ভগবানের অন্তঃস্থ শক্তি থেকে এক আলোকময় দেবী আবির্ভূত হলেন এবং তিনি এক মুহূর্তে মুর দানবকে হত্যা করেন। এই দেবীই একাদশী দেবী। বিষ্ণুর বরে দেবীর আবির্ভাব তীথিতে তার ব্রত পালন করলে, ব্রতকারীর সমস্ত পাপ মুক্ত হয়।এবং মৃত্যুর পরে বৈকুন্ঠলোকে যাত্রা করেন। এবার প্রশ্ন হল কেন একাদশী দেবী জগন্নাথের মন্দিরে বাঁধা থাকেন? সে এক আলাদা গল্প।


প্রচলিত বিশ্বাস অনুয়ায়ী একাদশীতে অন্ন ভক্ষণ শাস্ত্র বিরুদ্ধ ছিল। একদিন ব্রহ্মা পুরী ধামে গিয়েছিলেন বিষ্ণুদেবের প্রসাদের প্রত্যাশায়। পৌঁছে দেখেন সব প্রসাদ শেষ। ফেলে দেওয়া পাতা কুকুরে চেটে খাচ্ছে। জগন্নাথের প্রসাদ তাই তো অমৃত। কুকুরের পাত থেকে অন্ন ভাগ করে খেলেন ব্রহ্মা। সেদিন ছিল একাদশী। ব্রহ্মাকে অন্ন গ্রহণ করতে দেখে রেগে যান একাদশী দেবী। শাপ দিতে চান ব্রহ্মাকে। তখনই সেখআনে আসেন জগন্নাথ। বলেন, দেবতার প্রতি ভক্তি থাকলে কোনও দিন কখনও অন্ন বর্জনীয় নয়। সেদিন থেকে পুরীতে একাদশীর দিনেও অন্ন মহাপ্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পুরীতে কিন্তু গরম যেমন বাংলার মত নয়, শীতটাও তেমন অসহনীয় নয়। বরং শীতের সূর্য গায়ে মেখে বালির চড়ে হাঁটতে ভালোই লাগে। পঞ্চানন্দ তালুকদার একটু চাতাল গোছের মানুষ। চাতাল নামটা অবশ্য টুলটুল বৌদিই দিয়েছেন, মদ খেলে মাতাল, চা খেলে চাতাল। পুরী বিচে পঞ্চানন্দ তালুদারকে পায় কে? তৃষ্ণা পেলে হাত বাড়ালেই লেবু চা। খিদে পেলে একটু দাঁড়িয়ে ডিম টোস্ট, ম্যাগি, কচুরি কিংবা মদনমোহন।


সাধারণত মানুষ শীত টা অ্যাভয়েড করে পুরীতে আসেন। স্বাভাবিক ব্যাপার, সমুদ্রে স্নানটাই যদি আরাম করে করতে না পারেন তাহলে পুরীতে এসে লাভ কী? তবে শীতে এলে সমুদ্রে দাপাদাপি অনেকেই পছন্দ করবে না। তবে কুয়াশার চাঁদর পড়া নীলিমায় নীল দেখতে মন্দ লাগে না। তাছাড়া সাইট সিন মজা করে করা যায়। ঘুরে দেখে নিতে পারেন কোণার্ক সূর্য মন্দির, লিঙ্গরাজ মন্দির, নন্দনকানন, ধৌলিগিরি, চিল্কা, পিপিলি মহেন্দ্রগিরি ও রঘুরাজপুর শিল্প গ্রাম। সবকটা জায়গাই কমবেশি সকলেই জানেন বা জীবনে একবার অন্তত ঘুরে এসেছেন।


তালুকদার দম্পতি গিয়েছিলেন রঘুরাজপুর। পুরী থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে ভার্গব নদী তীরে অবস্থইত রঘুরাজপুর। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির প্রতিটি দেওয়াল যেন শিল্পের ক্যানভাস। এখানে প্রতিটি ঘরে দতৈরি হয় তালপাতার কারুকারি, মুখোশ, পাথরের মূর্তি। শুধু তাই নয় এই গ্রামেই সৃষ্টি হয়েছিল গোটিপুয়া নাচ। যা ওড়িশি নৃত্যের পূর্বসূরি। গ্রাম পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে গোটা গ্রামটা হেঁটে ঘুরতে পারেন। এ এক অন্য অভিজ্ঞতা। যাইহোক গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, বসন্ত সবসময়েই পুরীতে গিয়েছেন। এবার একবার ঘুরে আসুন শীতে। শীতে পুরীর রূপটাই আলাদা।



×
  • CTVN