দুর্গাপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, ছট এর মধ্যে কোথাও কোথাও আবার বারোয়ারি লক্ষ্মী। একমাস ঝকমকে উৎসব। সব পেরিয়ে একটু মনখারাপের বাষ্প জমা স্বাভাবিক। সামনে বাঙালি উৎসব বলতে সরস্বতী পুজো। কিছুটা মজা থাকে নিউ ইয়ারেও। কিন্তু এর মাঝামাঝি সময় শীতের চাদর গায়ে জড়িয়ে কোথাও একটা ঘুরে এলে হয় না? নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের গোড়ায় ঘুরে আসতে পারেন ঘর থেকে শুধু দু পা ফেলিয়া চুপির চরে।
নবদ্বীপ থেকে সামান্য দূরে পূর্বস্থলীর চুপি গ্রামে শীতকালে ভিড় জমাতে শুরু করে বিদেশী পাখির দল। অসপ্রে, রুডি শেলডাক, স্মল প্রাটিনকোল, রিভার ল্যাপ উইং, গ্রে হেরন, পার্পল হেরন, রেড ক্রেস্টেড পোচার্ড, গ্রিন বি ইটারের ওড়াউড়ি কিংবা সাধুর মত চুপ করে বসে থাকা, সবই ক্যামেরা বন্দী হবে আপনার> ভাগরথীর শাখানদী এখানে গঙ্গায় মেশার আগে তৈরি করেছে একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ। এই হ্রদই এখন পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা। হ্রদে তখন কুয়াশা নেমে এসেছে। জল শান্ত।
ইতিউতি জলজ উদ্ভিদের জঙ্গল। জলাশয়ের কোন ক্ষেত্রে পাখির আনাগোণা বেশি, ভালো জানেন মাঝিরাই। প্রতিঘণ্টা মাথাপিছু ১৫০ টাকা খরচ করে ভেসে পড়ুন জলে। কোথাও দুপাশের জঙ্গল ঝুঁকে আসবে নৌকায়। জলে ভাসতে ভাসতে উপভোগ করুন আমাজনের গা ছমছমে অনুভূতি। কচুরিপানা দিয়ে আপনি ভেসে চলেছেন নৌকা নিয়ে। ভাসতে ভাসতে দেখতে পাবেন কুয়াশায় ঢাকা মায়াপুর মন্দিরের চুড়া। একদিনেও ফিরে আসতে পারেন। তবে যদি থাকতে চান চুপির চরে রয়েছে চারটি কটেজ, দুটি গেস্ট হাউস।
এখান থেকে ফেরার পথে কালনার ১০৮ শিবমন্দির এবং হংসেশ্বরীর মন্দিরেও ঢুঁ মারতে পারেন। যারা ট্রেনে আসতে চান হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়ার লাইনে চলে যান পূর্বস্থলী স্টেশন। সেখান থেকে টোটোয় ২০ টাকা কাষ্টশালি পাখিরালয়। গাড়িতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সরস্বতী ব্রিজ পার করে কালনা হয়ে পূর্বস্থলী। চলুন তাহলে এবার শীতের শুরুতে ঘুরে আসা যাক চুপির চরে।