গোটা জীবন ধরে কী করলাম বলতে পারেন? চা খেয়ে বিচ্ছিরি ভাবে মুখ বেঁকিয়ে একটা সিগারেটের টান দিলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। আলেকজন্ডার সে কত বছর আগে ছোকরা বয়সে গোটা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছে। আর আমার কিনা ৬১ হতে চলল। তা দেশের বাইরে বেরোতে চান? জিজ্ঞাসা করল পাড়ার উঠতি কমরেড দীপু। যেতে চাই না মানে। ভাত আর ত্যালাপিয়ার ঝোল খেয়ে বাঙালি হয়ে দিন শেষ করে দেব? পাসপোর্ট আছে? দীপুর প্রশ্ন।
শুধু আমার কেন, তোমার টুলটুল বৌদিরও আছে। তাহলে ঠেকাচ্ছ কে? দীপু অনেকটা উদাসিন ভাবে জিজ্ঞাসা করল। গান্ধীজি ভায়া গান্ধীজি। পকেটে তেনার বড্ড অভাব। দীপু বলল যদি গোয়া যাবার খরচায় বিদেশ ঘুরে আসতে পারেন, যাবেন? একটু নড়ে চড়ে বসলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। কী হেয়ালি করছ ভায়া? হেয়ালি নয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবথেকে সাশ্রয়ী ভ্রমণের একটি হল ভিয়েতনাম। সরকারী মুদ্রা হল ভিয়েতনামী ডং।এক টাকা সমান প্রায় ২১৬ ভিয়েতনামী ডং। বিমানবন্দর, ব্যাংক, এবং অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ কাউন্টারে টাকার বিনিময়ে ডং পাওয়া যাবে।
তাছাড়া আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভিয়েতনামী ডং তোলা যেতে পারে। ভিয়েতনাম যাবার জন্য ভিসা প্রয়োজন। একেকজনের জন্য খরচ পড়বে প্রায় ২০০০ টাকা। এবার আসা যাক বিমান টিকিটের প্রসঙ্গে। হ্যানয় বা হো চি মিন সিটির এক পিঠের ভাড়া, আগে থেকে কাটলে ১৫ হাজারের মধ্যে হয়ে যাওয়া উচিত। মাঝারি একটি হোটেলের খরচ দিন প্রতি পড়বে আড়াই থেকে তিন হাজারের মধ্যে। ট্রান্সপোর্টের জন্য বাইক ভাড়া করে নিতে পারেন। খরচ পড়বে প্রতিদিন ড্রাই বাইক ৫০০ টাকা। ভিয়েতনামে গিয়ে স্ট্রিট ফুড অবশ্যই ট্রাই করবেন। খরচ পড়বে একশ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে। প্রতিদিনের খাবার ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাওয়া উচিত। ভিয়েতনামে অসংখ্য ঘোরার জায়গা।
বেশির ভাগেরই কোনও টিকিট নেই। তবে হা লং বে ঘুরতে লাগবে ৮০০ টাকা, ট্রাং আন লাগবে ৮০০ টাকা, কিউ চি চ্যানেল এর টিকিট ৩৫০ টাকা, হোই আন ঘুরতে লাগবে ৪০০ টাকা, ইম্পেরিয়াল সিটি অফ হিউ ঘুরতে লাগবে ৫০০ টাকার মত। ভিয়েতনামে ঘুরতে গেলে একটি স্থানীয় সিম কার্ড একশ থেকে তিনশ টাকা খরচ করে নিয়ে নেবেন। ডেটা নেবেন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী।
ভিয়েতনাম যাবেন আর কারও জন্য কিছু আনবেন না? সেই খাতে খরচ ধরে রাখুন দুই থেকে তিন হাজার টাকা। মোটের ওপর ফেলিয়ে ছড়িয়ে সাত দিনে এক একজনের জন্য খরচ পড়বে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তা ভায়া ওখানে কোথায় কোথায় ঘুরব? একটা লিস্ট তো দিয়েই দিয়েছি। এর বেশি এক ভাঁড় চায়ে হয় না, চলি। সিগারেটের কাউন্টার টা ফেলে রাস্তার মোড়ের দিকে এগিয়ে গেল দীপু।