গোটা মন্দিরের মাথা সোনা দিয়ে মোড়া। ঝকমক করছে। আমরা বাপু স্টেশনের গায়েই হোটেল নিয়েছিলাম। একটা টুকটুক ভাড়া করে সোজা চলে গিয়েছিলাম স্বর্ণ মন্দির। সে কী দৃশ্য তোমাদের কী বলব। সেখানকার লঙ্গরখানা বুঝলে মণি, কোথায় লাগে তোমার পিসির বাড়ির নরনারায়ণ সেবা? পঞ্চানন্দ তালুকদার গত পরশু অমৃতসর স্বর্ণ মন্দির দেখে নিজের ধামে ল্যান্ড করলেন। ভাবা গিয়েছিল আজকে অমৃতসর স্বর্ণমন্দির নিয়েই সন্ধ্যা কেটে যাবে। কিন্তু আজ তালুকদার বাবু খেপেছেন স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গর নিয়ে।
পৃথিবীর সবথেকে বড় কমিউনিটি কিচেন। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের পাত পড়ে। লঙ্গরের আসল জাদু রয়েছে এখানকার কড়া প্রসাদে। আসল গাওয়া ঘিয়ে তৈরি এই প্রসাদ তার গন্ধেই আপনাকে মাতোয়ারা করে দেবে। গুরু রামদাস লঙ্গর পঞ্চাশ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে তৈরি। এটি দু ভাগে বিভক্ত। একসঙ্গে পাঁচ হাজার মানুষ এখানে খেতে পারেন। কোনও জাত ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ করা হয় না এই লঙ্গর খানায়। যেকোনও বৃত্তের মানুষ এখানে এসে পেট ভরে খাবার খেয়ে যেতে পারেন।
খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত, ডাল, রুটি, সবজি, ছানা, ক্ষির। খাবার বানাতে প্রতিদিন ১২ হাজার কেজি ময়দা, দেড় হাজার কেজি চাল ১৩ হাজার কেজি ডাল, সাত হাজার লিটার দুধ এবং ২ হাজার কেজি সবজি লাগে। ৪৫০ স্বেচ্ছাসেবী মিলে ২৪ ঘণ্টা এই রান্নাঘর চালু রাখেন। বুঝলে ভাইপো এই লঙ্গর খানায় একটি মেসিন রয়েছে যেটা দিয়ে ঘণ্টায় ২৫ হাজার রুটি তৈরি করা যায়। আর বাসন কোসনের কথা কী বলব ,এক একটি কড়াইতে এক একেবারে ৫০০ কেজি ডাল রান্না করা যায়। তাহলে বোঝো গিয়ে সে এক এলাহি ব্যাপার।