'এ সংসার প্রপঞ্চময়, বুঝলে ভায়া, সকলই মায়া'। টুলটুল বৌদির হাতের ফিসচপে একটি মেগা কামড় দিতে গিয়ে বিষম খেল মণি। 'ঘুরতে যাবে অফিস ছুটি দেয়নি'। প্লেটে আর একটা চপ দিতে দিতে ফিক করে হেসে ফেললেন বৌদি। যত দিন যাচ্ছে পঞ্চানন্দ তালুকদারের ঘোরার বাই বাড়ছে। শীতের শুরুতে ঘুরতে যাবেন দশদিনের ছুটি চেয়েছিলেন অফিসে। অফিস পাঁচদিনের দিয়েছে। অগত্যা মণির ওপর ভার পড়েছে পাঁচদিনের একটা ট্যুর প্ল্যান করে দিতে।
মণি আবার পাহাড় স্পেশালিস্ট। ফিসচপে কামড় দিয়ে বলল, 'তাহলে ঘুরে আসুন দলমা পাহাড় থেকে'। 'দলমা'! একটু যেন হতাশ হলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। 'চারচাকায় বউ বাজার থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। পাহাড় জঙ্গল ঝরনা সব পাবেন এক সঙ্গে'। জামসেদপুরের কাছেই দলমা পাহাড়। ট্রেনে করে যেতে চাইলে চাইবাসা পর্যন্ত যাওয়া যায় ট্রেনে। কলকাতা থেকে দলমা পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। 'তা নাহয় বোঝা গেল কিন্তু সেখানে গেলে দেখবটা কী'? এখনও সন্দেহ কাটেনি পঞ্চানন্দ তালুকদারের। দলমা পাহাড় বিখ্যাত এর অভয়ারণ্যের জন্য। ঘন সবুজ। চোখে আরাম দেয়। জঙ্গলে রয়েছে হাতি, চিতা, হরিণ আর হাজার হাজার পাখি। অনেকেই ট্রেক করে ওঠে দলমা শিখরে। খুব একটা কঠিন নয়। কিন্তু ওপর থেকে গোটা এলাকার মনোরম দৃশ্য আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে।
এখানেই রয়েছে সীতারাম ঝরনা। ঝনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রামায়নের গল্প। দলমা পাহাড়ে এই বাঁধ আর ঝরনা হতে পারে এক অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা। দেখতেই হবে ডিমনা হ্রদ। হ্রদের অবস্থান পাহাড়ের পায়ের কাছে। দলমার ছায়া এসে পড়ে লেকের বুকে। এবার পঞ্চানন্দ তালুকদারের গালে চওড়া হাসি। 'তা ভায়া থাকার ব্যবস্থা কী হবে'? বনবিভাগের কিছু রিসোর্ট আছে। তাছাড়াও স্থানীয় কিছু হোমস্টের ব্যবস্থাও রয়েছে। চার দিন তিন রাত্রির ট্যুর একদিন বাড়িতে রেস্ট তারপর আবার অফিস। মাছের চপ শেষ ইতিমধ্যে কফির মগ চলে এসেছে।