অসীম সেনঃ সব পেয়েছির আসর থেকে ডিসেম্বরে পিকনিক। কী করিবো কোথা যাব অনুজ লক্ষ্ণণ? প্রেসিডেন্ট পঞ্চানন্দ তালুকদার জিজ্ঞাসা করলেন দীপুকে। দীপু একটু ভাবল। তারপর বলল তিনটে জায়গার নাম বলতে পারি। এক ডায়মন্ড হারবার, দুই সবুজ দ্বীপ, তিন গাদিয়ারা। গাদিয়ারা তো হাওড়ায়, তাই না? পঞ্চানন্দ তালুকদারের জ্ঞানদীপ্ত প্রশ্ন। হাওড়া কিন্তু খুব একটা ছোট জায়গা নয়।
হাওড়ার শ্যামপুরের কোণায় ত্রিবেণী। অর্থাৎ তিন নদীর সঙ্গমস্থল। একদিকে ভাগীরথী গঙ্গা অন্যদিকে রূপনারায়ণ। একটু আগেই মিশেছে দামোদর। যতদূর চোখ যায়া শুধু জল আর জল। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। নদীর তীরে পাখির মেলা। শীতের মরসুমে যদি সকাল সকাল পৌঁছে যেতে পারেন তাহলে স্থানীয় শিউলিদের কাছ থেকে টাটকা খেজুর রস খেতে পারেন। প্রতি গ্রাস কুড়ি টাকা। পিকনিকে যাবেন যখন দুটি পথ আপনাদের জন্য খোলা আছে। হয় কলকাতা থেকে বাস বুক করে ৯০ কিলোমিটার হৈ হৈ করতে করতে চলে যান। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বাগনান সেখান থেকে আরও ৩৩ কিলোমিটার। ট্রেনে গেলে নামতে হবে বাগনানে।
গাদিয়ারা থেকে কিছু দূরেই পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি, সময় পেলে নদী পেরিয়ে ঘুরে আসতে পারেন মহিষাদল রাজবাড়ি থেকে। পিকনিক ছাড়া টুলটুল বৌদিকে নিয়ে একদিনের আউটিংয়ে বেড়োলে গাদিয়ারার কাছেই রয়েছে গরচুমুক। আপনার মত হাতে গোণা কয়েকজন ছাড়া প্রায় প্রত্যেকেই জানে গাদিয়ারার নাম। যেহেতু তিন নদী মিলেছে এখানে তাই নদী বেশ চওড়া। নদীর সঙ্গম ঘুরে আসতে পারেন নৌকা নিয়ে।
শীতকালে শালটা আলতো করে গায়ে ফেলে কুসুম কুসুম রোদের তাত পোহাতে পোহাতে ভেসে পড়ুন নদীতে। শিরশির করে বইবে হাওয়া। চাইকি টুলটুল বৌদির অবাধ্য অলক সরিয়ে দিন গাল থেকে। ধীরে ধীরে নদীর বুকে সূর্য আবির গুলবে। ওদিকে তো আবার বাস ছাড়বে বলে তাড়া দিচ্ছে। আর কী ?এটাই গাদিয়ারা। চমক ভাঙল পঞ্চানন্দ তালুকদারের। ছোকড়া ডেপো বটে, কিন্তু নদীর বুকে বৌএর চুলটা আলতো করে মুখ থেকে সরিয়ে দেবার বিষয়টা ভাবতেই বেশ ভালো লাগছে।