আরে বাবা মার্চ মাসে অত দূরে যেতে গেলে আগে থেকে তো একটা প্রিপারেশন লাগে নাকি? রীতিমত খেঁকিয়ে উঠলেন পাড়ার নিতাই কে। নিতাই পাল, ট্রাভেলস এর ব্যবসা করে। এই নিয়ে তিনদিন পঞ্চানন্দ তালুকদার গিয়েছিলেন নিতাইয়ের অফিসে। প্রতিবারই কয়েকটা দিন সময় দিন জানাচ্ছি টাইপের জবাব মিলেছে। ওই দিকে শালীরা গত বছরে ঘুরে এসেছে উত্তর কাশী থেকে। সেই থেকে টুলটুল বৌদির বায়না, উত্তর কাশীতে যাবেন। পঞ্চানন্দ তালুকদার ইতিমধ্যে বুঝে নিয়েছেন নিতাইকে দিয়ে হবে না। অগত্যা কয়েকটা ফিস কাটলেট কিনে বাড়ি ফিরতে ফিরতে দীপুকে ফোন করে বললেন, ভায়া একবার আমার বাড়ি এসো তো। দীপু প্রথমেই জানিয়ে দিল। মার্চ এপ্রিল যখনই জান না কেন, উত্তর কাশী কিন্তু দীঘা পুরির মত নয়। উত্তর কাশী ভ্রমণ গোটা জীবনের একটি প্রাপ্তি বটে। কিন্তু যথেষ্ট শক্ত।
উত্তরকাশী শব্দটির অর্থ উত্তরের কাশী। স্বাভাবিক ভাবেই বুঝতে পারছেন শহরটির সঙ্গে ধর্ম অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে। উত্তরাখন্ডের এই শহরটি সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১১৫৮ মিটার উচ্চতায় ভাগীরথীর তীরে অবস্থিত। অসংখ্য মন্দির ও আশ্রম গোটা এলাকাটিকে শান্তির আবহে ঢেকে রেখেছে। পবিত্র এই তীর্থক্ষেত্রকে আঁধাচাঁদের আকারে বেষ্টন করে বয়ে চলেছে উত্তরবাহিনী গঙ্গা। এই উত্তরাকাশীতেই জ্যোতিরধামের রাজাকে উত্তরাখণ্ডে বৈদিক ধর্ম পুনস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন শঙ্কর আচার্য। এই হচ্ছে দীপুর প্রবলেম। একটা কাটলেট ইতিমধ্যেই খাওয়া হয়ে গিয়েছে কিন্তু এখনও মেইন টপিকে আসার নাম নেই।
গোটা এলাকাই পাহাড়ে ঢাকা। উত্তরকাশী দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অসংখ্য নদী। যার মধ্যে রয়েছে যমুনা, গঙ্গা। যদিও গঙ্গা এখানে ভাগীরথী। এই দুটি নদীর উত্তপত্তিস্থল যমুনোত্রী ও গঙ্গোত্রী এই জেলাতেই অবস্থিত। এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। ইতিমধ্যে টুলটুল বৌদি কফি নিয়ে চলে এসেছেন। অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ করতে চাইলে আপনার জন্য রয়েছে রক ক্লাইম্বিং কিংবা ট্রেকিং। জেলার দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে কেদারতল, বারকোট, হরসিল এবং গাঙ্গওয়ানি। এছাড়াও এই জেলায় উত্তরাখণ্ডের কিছু সেরা ট্রেক রয়েছে যেমন দোদিতাল, হর কি দুন এবং দয়ারা বুগিয়াল। দোদিতাল হ্রদটি সম্পর্কে বলা হয়, এখানেই নাকি গণেশের জন্ম হয়েছিল। চারিদিকে দেবদারু ওক এবং রডোডেনড্রন বনে ঢাকা। আপনারা যখন যাবেন তখন রডোডেনড্রন পেয়ে যাবেন। অ্যাসট্রে টা টেনে নিল দীপু। উত্তরকাশী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দোদিতাল ।
দয়ারা বুগয়ালের ট্রেকিং শুরু হয় বারসু গ্রাম থেকে। অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। ট্রেক করতে না পারেন, বেসক্যাম্পটা ঘুরে দেখতেই পারেন। উত্তরকাশী থেকে ১৫ কিলোমিটারের মত দূর হবে মানেরি বাঁধ। বাঁধটি ভাগীরথীর ওপর অবস্থিত। খেলাধুলা বা অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য মনোরম স্থান হিসেবে পরিচিত হারসিল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬২০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। উত্তরকাশী থেকে এখানে পৌঁছাতে ৭৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এই জায়গাটিও ট্রেকিংয়ের জন্য বিখ্যাত। গঙ্গোত্রী হল দেবী গঙ্গার মন্দির। এটি উত্তরকাশী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।এখানে গঙ্গা নদীর নাম ভাগীরথী। দেবপ্রয়াগে অলকানন্দা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে গঙ্গা নাম ধারণ করেছে। গঙ্গোত্রীর কাছে গোমুখে গঙ্গার উৎস। সে এক স্বর্গীয় স্থান দাদা। গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ার থেকে কাঁচ স্বচ্ছ গঙ্গা বেরিয়ে আসছে। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। এই সেই গঙ্গা যেটা আমাদের সংস্কৃতির মেরুদণ্ড।
এবার প্রশ্ন হল উত্তরকাশী পৌঁছবেন কীভাবে? হাওড়া থেকে হরিদ্বার অথবা দেরাদুন পর্যন্ত ট্রেন করে গিয়ে গাড়ি নিয়ে নিতে হবে। ওখানে থাকার একাধিক হোটেল রিসোর্ট এবং লজ রয়েছে। চাইকি আশ্রমে থাকার ব্যবস্থাও করে নিতে পারেন। তাহলে মার্চে টিকিট টা কেটেই নেওয়া যাক কী বলো? দীপুর স্মার্ট উত্তর। কেটে নিতেই পারেন, তবে তার আগে কাল থেকে দুজনে মিলে সকালে হাঁটতে বেরোন। উত্তরকাশিতে যেতে গেলে ওজন আরএকটু ঝড়ানো দরকার। দীপের কথায় টিপস কম বডি শেমিং বেশী বলে মনে হল পঞ্চানন্দ তালুকদারের।