ভিয়েতনাম ভ্রমণের খরচাপাতি শুনিয়ে দীপু সেই যে কাটল, পরপর তিনদিন পাত্তা নেই। ওদিকে পঞ্চানন্দ তালুকদারের পেট গুরগুর করছে। সামনেই একটা টাকা ম্যাচিওর করার কথা। মনটা কেমন যেন বেড়ু বেড়ু মোডে রয়েছে। বিকেল সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ লালটুর চায়ের দোকানে দীপুর সঙ্গে দেখা। পঞ্চানন্দ তালুকদার বললেন ভারী বেয়াক্কেলে তো ভায়া। ভিয়েতনাম ঘুরতে কত টাকা লাগবে তা তো বললে, কোথায় কোথায় ঘুরব সেটা বললে না তো? দুজনে লালটুর দোকানে পা ভাঙা টেবিলের দুপাশে দুটো চেয়ার নিয়ে বসলেন। ঘুঘনি আর ওমলেট। সঙ্গে চা। ঘুঘনির সঙ্গে সামান্য ওমলেট মাখিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দীপু বলতে শুরু করল।
ভিয়েতনামের রাজধানী হল হ্যানয়। সেখান থেকেই না হয় ঘোরা শুরু করবেন। অনেক হানুই বলে ডাকে। মানে নদীর মধ্যে শহর। নাম শুনেই মোটামুটি শহরটাকে আন্দাজ করা যায়। প্রাচীন আর নবীন স্থাপত্যের মেলবন্ধন। হ্যনয়ে রয়েছে টেম্পল অফ লিটারেচার, হোয়ান কিয়েম লেক। এই লেকের নামের পিছনে একটা গল্প রয়েছে। এটি ফেরত তলোয়ারের লেক নামেও পরিচিত। রাজা লে লই একটি যাদু তলোয়ার ব্যবহার করে মিং বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন এবং নিজের দেশবাসীকে রক্ষা করেছিলেন। পরে সেটি সোনালী কচ্ছপরূপী ঈশ্বর ফেরৎ নিয়ে যান।
হ্য়নয় থেকে ১৮২ কিলোমিটার দূরে কুইংলিন প্রদেশে হ্যালং উপসাগরের তীরে সুন্দর সহ হ্যালং। টিং কিং উপসাগরের অংশবিশেষ হল হ্যালং উপসাগর। ছোটবড় প্রায় ২ হাজারটি মনোলিথিক দীপ নিয়ে এই উপসাগর। এর মধ্যে ৯৮৯ টি দ্বীপের নাম রয়েছে বাকি গুলি নামহীন। এই দ্বীপগুলির কয়েকটিকে রয়েছে স্ট্যালগমাইট এবং স্ট্যালাগটাইটের আশ্বর্য কিছু গুহা।
হ্যানয় থেকে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত কোয়াং ফু সাউ। গ্রামে ঢুকলেই বাতাসে ভেসে আসে ধূপের স্নিগ্ধ গন্ধ। এ গ্রামের প্রায় প্রতি পরিবারই বংশপরম্পরায় ধূপকাঠি বানিয়ে আসছেন। ভিয়েতনামের যেকোনও ধর্মীয় আচারে ধূপ অপরিহার্য। আর এই ধূপের চাহিদা মেটায় এই গ্রাম। ভিয়েতনামের ধূপ কি আমার গোপালের সামনে দেওয়া যাবে। উত্তর না দিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে তাকাল দীপু। তারপর বলতে থাকল। একটা মাঠে থরে থরে লাল হলুদ গোলাপি বেগুনি ধুপকাঠি গুচ্ছে গুচ্ছে গোলাকার ভাবে শোকাতে দেওয়া। দূর থেকে মনে হবে বাহারী ফুলের কার্পেট, রঙের সমুদ্র।
ভিয়েতনামের আর একটা দর্শনীয় স্থান অবশ্যই বা না হিলস দানাং শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪৮৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই পার্বত্য অঞ্চলটি। গোটা পাহাড় জুড়ে ফরাসি স্থাপত্য। এখানে পাবেন বিশ্বের দীর্ঘতম কেবল কারে ভ্রমণ, আইকনিক গোল্ডেন ব্রিজে হাঁটার অভিজ্ঞতা। বলার সঙ্গে সঙ্গে আইনকনিক গোল্ডেন ব্রিজের ছবি মোবাইলে দেখিয়ে দিল দীপু। দুটি হাতের ওপর একটা সেতু। হাঁ করে দেখলেন পঞ্চানন্দ বাবু। ভগবানের হাতের ওপর দাঁড়িয়ে মেঘের চাদর বিছানো পাহাড় দেখুন। হাঁ করে শুনছিলেন পঞ্চানন্দ বাবু। শুনছিলেন না বলে গিলছিলেন বলা ভালো। ঢোক গিলে বললেন ভাইরে যা বললি এ তো মনে হচ্ছে স্বপ্ন। দীপু একটু চোখ মটকে বলল ঘুরে আসুন টুলটুল বৌদির সঙ্গে নতুন করে একটা হানিমুন হয়ে যাবে। আজকালকার ছেলেগুলি যা ফিঁচেল না!