মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আগুন জ্বলতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক পুরনো নাম-বাবা ভাঙ্গা। অনেকে দাবি করছেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই নাকি শুরু হবে এক 'মহাযুদ্ধ', যার সূত্রপাত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সাম্প্রতিক ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেই ভবিষ্যৎবাণী ঘিরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া এই অন্ধ মিস্টিককে অনেকেই “বলকানের নস্ট্রাদামুস” বলে ডাকেন। শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তিনি দাবি করেছিলেন, ভবিষ্যৎ দেখার অলৌকিক ক্ষমতা তাঁর হয়েছে। তাঁর অনুগামীরা বলেন, ৯/১১ হামলা বা রাশিয়ার কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও তিনি নাকি আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন-যদিও ইতিহাসবিদদের বড় অংশই এসব দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেন।
বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত একটি বক্তব্যে বলা হয়-'সিরিয়ার পতন হলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে মহাযুদ্ধ শুরু হবে। বসন্তকালে প্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে এবং পশ্চিম ধ্বংস হবে।' বর্তমানে সিরিয়ার অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে অনেকে সেই ভবিষ্যৎবাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
আরও দাবি করা হয়, এই যুদ্ধে ইউরোপ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে এবং রাশিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-এই সব ভবিষ্যৎবাণীর নির্ভরযোগ্য, লিখিত বা যাচাইকৃত প্রমাণ নেই। অধিকাংশই লোকমুখে ছড়ানো বা পরবর্তীকালে আরোপিত ব্যাখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহতার সময়ে মানুষ ভবিষ্যৎ জানতে চায়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লেই ভবিষ্যৎবক্তাদের নাম সামনে আসে। এক্স বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তাই বাবা ভাঙ্গা বারবার ট্রেন্ড করেন।