শোভাবাজার থেকে বাঁ-দিকের রাস্তা ধরে এগোলেই আপনি পৌঁছে যাবেন অন্য এক কলকাতায়। তিলোত্তমার কোলাহল এখানে বন্ধ হয়ে থাকে ছোট ছোট হোটেল, কুঠুরিতে। শোভাবাজারের সোনাগাছি, এশিয়ার অন্যতম বিশাল যৌনপল্লী । দিনরাত যৌনকর্মী ও গ্রাহকদের শব্দে মুখর হয়ে থাকে এলাকা। সকাল থেকে রাত, সোনাগাছি কোনোদিন ঘুমায় না, এরকমই প্রবাদ আছে। এখানে যৌনকর্মীদের সংখ্যাটা এখন ছাড়িয়েছে প্রায় সাত হাজার, এরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। বাইরে থেকে আসা যৌনকর্মীর সংখ্যাটা প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। সব মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার যৌনকর্মীর রুজি-রোজগার রয়েছে এই সোনাগাছিকে ঘিরে।
তবে ২০২০-র করোনা মহামারীর পরে এই রোজগারে অনেকটাই ভাঁটা পড়েছে। এমনিতে দীর্ঘদিন লক-ডাউন থাকার কারণে গ্রাহক আসা বন্ধ ছিল। সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকটা সময় সোনাগাছি কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবেই চিহ্নিত ছিল। লক-ডাউন পরবর্তী সময়ে যে এই চিত্র পাল্টেছে তা কিন্তু না। ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত, এই গ্রাহকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। যা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে যৌনকর্মীদের। কিছুটা ভয়েই সোনাগাছি বিমুখী হয়েছে শহর।
যৌনকর্মীদের অর্ধেকের বেশি গ্রাহক যে স্টেটাস থেকে উঠে আসে তারা অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ে শহরে বা নিজের এলাকায় না থাকার কারণে ভাঁটা পড়েছে সোনাগাছির রুটিরুজিতে। সেই সঙ্গে অন্য রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক বা কর্মী তারাও এরিয়ার ছোট ছোট যৌনপল্লী মুখী হয়েছে, তার পিছনে রয়েছে নিত্যদিনের পুলিশি ঝামেলা এড়ানো ও টাকার অঙ্ক।
তবে ইদানীং এক অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে সোনাগাছি। গ্রাহকদের মোবাইল, মানিব্যাগ চুরি-ছিনতাই এখানে নতুন না হলেও, কোনো একটি চক্র আবার নতুন করে এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকদের লুঠপাঠ ও হেনস্তার ঘটনা বেড়ে চলেছে ভয়ঙ্কর ভাবে। যৌনকর্মীদের একাংশের অভিযোগ কোনো একটি চক্র সোনাগাছিতে গ্রাহকদের ডেকে এনে টাকা, মোবাইল, আরও সাথে থাকা সোনার জিনিস ছিনতাই করে নিচ্ছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে এখানকার যৌনকর্মীদের কিছু অংশ। আর তাতেই গ্রাহকরা ভয়ে আসতে চাইছে না সোনাগাছিতে।
অসমর্থিত সূত্র মারফৎ জানা গেছে, তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল। বহু বছর ধরে চলে আসা এই চক্র, নতুন করে কাজ শুরু করেছে, তাতে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্রাহক কমেছে। পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু ভুক্তভুগী ব্যক্তি লজ্জার কারণেই পুলিশে অভিযোগ জানাতে আসেন না, ফলে পুলিশও কোনো ভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনা। তবে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে পূজার মুখে কমে যেতে পারে রোজগার, এই চিন্তা নিয়েই আপাতত দিন কাটাচ্ছে সোনাগাছি।