দিশা আর অনীকের ৩ বছরের সম্পর্ক। প্রেম শুরু হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। মতের অমিল, সন্দেহ, প্রতিদিন ঝগড়া, একটা ভয়ঙ্কর টক্সিক ব্যাপার। কিন্তু কোনোভাবেই দুজনের কেউই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, বলা ভালো চায়নি। কারণটা একটাই, সেটা শরীরের। ওদের একে অপরের প্রতি এতটাই শারীরিক টান, একটা দারুন শারীরিক মিলন, সেটা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায় না কেউই। তাই 'এটা যখন ঠিক আছে, বাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এই ভেবেই অশান্তি, ঝগড়া নিয়েও থেকে গেছে ওরা।
সিচুয়েশনশিপ, মেবিলেশনশিপের পরে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ 'Glueing' (গ্লুয়িং)। পাতি বাংলায় বলা যায় এই সম্পর্কে কোনো ইমোশনাল কানেকশন নেই কিন্তু শারীরিক টান থাকে তীব্র। আর এই টান-ই বাকি খুঁতগুলোকে ঢেকে দিয়ে সম্পর্কটাকে জোড়া লাগিয়ে রাখে। ডেটিং কোচ Hayley Quinn জানান, বহু দম্পতি বা পার্টনারদের সম্পর্কে এই ধরণের রসায়ন দেখা যায়। প্রতিদিন তীব্র অশান্তি, কোনো মিল নেই মতাদর্শে, কিংবা একে অপরের প্রতি ভরসার জায়গাটাও নড়বড়ে হয়ে গেছে বহুদিন। কিন্তু বেডরুমের রসায়ন এতটাই তীব্র যে, তারা একে অপরের থেকে আলাদা হতে পারেন না। অনেকেই সম্পর্কের বড় বড় ফাটলগুলিকে আড়াল করে দেয় এই শারীরিক ঘনিষ্ঠতা।
মনোবিদদের মতে, এই ধরণের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিপদ হল ভুল মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা। প্রতিবার ঝগড়ার পর শারীরিক মিলনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সব কিছু ভুলে গেলেও, সম্পর্কের মূল সমস্যাগুলোর কিন্তু কোনো মীমাংসাই হয় না। ফলে একসময় পার্টনারদের মধ্যে শূন্যতা এবং মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও মানসিক বোঝাপড়া। শুধু শারীরিক আকর্ষণকে হাতিয়ার বানিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে তা একসময় টক্সিক হয়ে ওঠে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তাই শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও সমানভাবে জরুরি।