পায়খানাও হাতিয়ার হতে পারে, ভেবেছেন কখনো? এটম বোমার নাম শুনেছেন, গুলি, বন্দুক মায় পেটো, কিন্তু পায়খানাও অস্ত্রের কাজ করে, নৈব নৈব চ। দিনে রাতে, জেনেশুনে বা অজান্তেই আমরা মাঝে মাঝেই এই অস্ত্র প্রয়োগ করে ফেলি নিজেদের জীবনেই। আচ্ছা দাঁড়ান বিষয়টা বিশদে বলি। 'ওয়েপনাইজড পুপিং (Weaponized pooping) বা পরিস্কার ভাষায় মলত্যাগকে হাতিয়ার করে নেওয়ার প্রবণতা, যদিও এটি নতুন টার্ম নয়। তবে সাম্প্রতিককালে এই বিষয় নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই শব্দবন্ধটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন অলিভিয়া হাওয়েল, তিনি একজন বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত পরামর্শদাতা। তাঁর মতে পুরুষরাই এই অস্ত্র সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকেন।
বিষয়টা কিরকম? ধরুন বাড়ির কোনো কাজ, বা সদ্যোজাত শিশুকে খাওয়ানো বা তার পটি পরিষ্কার করা বা ধরুন সামান্য এঁটো বাসন মেজে দেওয়ার কথা উঠলেই কেউ কেউ বাহানা দেন, "আমার হাগা পেয়েছে, একটু বাথরুম থেকে আসছি।" অলিভিয়ার মতে এই মলত্যাগের অজুহাত স্রেফ পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্যই। বাথরুমে যাওয়ার পরে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা স্রেফ রিলস দেখে বা ফোন ঘেঁটে কাটিয়ে দিচ্ছেন। আর সময়ের কাজ সময়ে এসে স্ত্রী বা অন্য কেউ করে নিচ্ছেন। ফলে 'হাগু পেয়েছে' এই বাহানাকে ঢাল করে দিব্বি পিঠটান দেওয়া যাচ্ছে দায়িত্ব থেকেও।
দেখুন বেগ আসলে সামলানো মুশকিল, আর কেউ বলেও না 'চেপে রাখ', কিন্তু দায়িত্ব থেকে পালানোর জন্য একে হাতিয়ার করার বিষয়টা এই মুহূর্তের বহু পুরুষের মধ্যে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইন্ট্রোভার্ট মেয়ে বা ছেলেরাও কোথাও একটা গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমেই কাটিয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে অবশ্য একটা মনস্তত্ব কাজ করে, যে তারা কার সাথে, কি ধরনের কথা বলবে? সেসব বুঝতে না পেরে বাথরুমকেই নিজের সেফ-প্লেস হিসাবে দেখেন। কিন্তু একটু সদ্যোজাত সন্তানের বাবা দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই হাতিয়ারের প্রয়োগ করলে সেটা মোটেই যুক্তির কথা নয়। কারণ বাচ্চা বা একটা সংসার একজন নারীর একার না, তাতে দায়িত্ব থাকে উভয়েরই।
ঘন্টার পর ঘন্টা কমোডে বসে থাকার ফলে হতে পারে শিরদাঁড়ার রোগ এমনই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা, তাছাড়াও রয়েছে চোখের সমস্যা। কিন্তু বিপাকে এখন কোষ্ঠের রুগীরা, তাদের তো বাথরুম যেতেই হয় বারবার। আর যারা অজুহাত দিচ্ছেন, তাদের জোর দাবি, এই সময়টুকু দরকার লাগেই, এটা কোনো অজুহাত নয়। কে ঠিক আর কে ভুল, বিচারটা করবে কে? বলুন তো দেখি!