সন্ধ্যা নামলেই রাতারাতি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে গ্রামের রাস্তা। মোটামুটি আঁধার নামতেই বাড়ির পথে হাঁটা লাগাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ঘোরানাস আর মুস্থলী, এই দুই গ্রামের মানুষ সকাল-বিকেল, দুই বেলাতেই বেশ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কি ভাবছেন? চুরি-ছিনতাই বা ডাকাতি-রাহাজানি, একদমই নয়। এক পাঁঠার তান্ডবে ভয়ে সিঁটিয়ে এই দুই গ্রাম। রাস্তায় বেরোলেই হঠাৎ করে উদয় হচ্ছে এক তাগড়াই পাঁঠার, ব্যস তারপর তাড়া। দৌড়, দৌড়...জখম বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী।
পাঁঠার নাম কালু, জানা যায় পাঁচ বছর আগে ঘোরানাস গ্রামের বাসিন্দা, শ্যামল চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেই জন্মেছিল কালু। স্ত্রীয়ের মানতের জন্য, দেবী কালীর কাছে কালুকে উৎসর্গ করে কালু-কে ছেড়ে দেওয়া হয় রাস্তায়। প্রথম প্রথম সব ঠিক থাকলেও, ইদানীং কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ক্ষেপে উঠেছে কালু। এর জবাব না আছে গ্রামবাসীর কাছে না আছে কালুর মালিকের কাছে।
গ্রামবাসীদের কথায়, আপাতত কালুর আক্রমণে ঘায়েল হয়েছে ২০ জনের বেশি। সকালে বাজার যাওয়ার সময় বা বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ করে কালুর আবির্ভাব বেশ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দুই গ্রামেই। তবে আপাতত কালুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই চটুল রসিকতায় মেতেছেন নেটিজেনরা। এক জনের সহাস্য মন্তব্য, পাঁঠা তো পাঁঠামি করবেই। নেট পারে বিষয়টা হাসাহাসির হলেও, সব মিলিয়ে আপাতত 'পাঁঠার পাঁঠামো' নিয়ে বেশ চিন্তায় ঘোরানাস ও মুস্থলী গ্রামের বাসিন্দারা।