Calcutta Television Network

স্ত্রীদের কারণেই হৃদযন্ত্রের অসুখে ভোগেন পুরুষরা? কী বলছে সমীক্ষা!

স্ত্রীদের কারণেই হৃদযন্ত্রের অসুখে ভোগেন পুরুষরা? কী বলছে সমীক্ষা!
5 October 2026 01:36:09 pm

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হার্ট অ্যাটাকের পেছনে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা এবং বংশগত কারণকে দায়ী করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও কার্ডিওলজি বিষয়ক গবেষণা এক নতুন ও চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছে। গবেষকদের দাবি, দাম্পত্য জীবনের অশান্তি এবং স্ত্রীর অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা আচরণের কারণে স্বামীর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এর পেছনে কিন্তু রয়েছে বেশ গভীর যুক্তি।

মানসিক চাপ ও হৃদরোগের যোগসূত্র:

একটি সুস্থ ও সুখী দাম্পত্য জীবন যেমন মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি একটি খারাপ সম্পর্ক মানুষের জীবনীশক্তি কেড়ে  নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো পুরুষ বৈবাহিক জীবনে প্রতিনিয়ত অশান্তি, কটূক্তি বা অতিরিক্ত সমালোচনার শিকার হন, তখন তার শরীর ক্রমাগত 'স্ট্রেস হরমোন' বা কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন নিঃসৃত করতে থাকে। এই হরমোনগুলোর অতিরিক্ত ক্ষরণ রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা একপর্যায়ে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষণা কী বলে?

মার্কিন গবেষকদের করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষেরা বৈবাহিক জীবনে সুখী নন অথবা যাদের স্ত্রীরা অতিরিক্ত খিটখিটে স্বভাবের, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সুখী পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এক গবেষণাতেও দেখা গেছে, তীব্র পারিবারিক অশান্তি, ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস' বলা হয়।

পুরুষদের অনুভূতি প্রকাশ না করার প্রবণতা:

এই সমস্যার আরেকটি বড় কারণ হলো পুরুষদের মনের গঠন। ছোট থেকেই বেশিরভাগ সময়ে শেখানো হয়, পুরুষরা কাঁদে না! আর সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে সমাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে অনেক পুরুষই তাদের মানসিক কষ্ট বা অশান্তির কথা বাইরে কারো কাছে প্রকাশ করতে পারেন না। পুরুষেরা মনের ক্ষোভ মনের ভেতরেই চেপে রাখেন। এই 'ক্রনিক স্ট্রেস' ভেতরে ভেতরে তাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আচমকা কোনো বড় পারিবারিক ঝগড়া বা মানসিক আঘাত তাই মুহূর্তের মধ্যেই ব্লকেজ তৈরি করে হার্ট অ্যাটাক ডেকে আনতে পারে।

দায়িত্ব কেবল স্ত্রীর নয়, সমাধান লুকিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ায়

'স্ত্রীর কারণে স্বামীর হার্ট অ্যাটাক' লেখার বিষয় বস্তু এটা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দোষারোপ করা নয়। বরং দাম্পত্য জীবনের গভীরতা ও তার প্রভাব আমাদের শরীরের ওপর কতটা তীব্র, তা ভালো করে বুঝতে শেখা। অনেক সময় স্ত্রীর নিজের ভেতরের একাকীত্ব, হতাশা বা অবহেলা থেকেও তিনি স্বামীর প্রতি এই ধরনের আচরণ করতে পারেন।

তাই এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রয়োজন পারস্পরিক সংবেদনশীলতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

খোলামেলা আলোচনা: যেকোনো ছোট বড় সমস্যা নিয়ে নিজেদের মধ্যে শান্তভাবে কথা বলুন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দুজনে মিলে কোয়ালিটি টাইম কাটান এবং প্রয়োজনে কাপল কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিন।

শ্রোতা হন: একে অপরের অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস করুন, রাগ নয় দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সুন্দর সম্পর্কেই। 

দিনশেষে, একটি হাসিখুশি দাম্পত্য জীবন শুধু মনের শান্তিই দেয় না, বরং তা সুস্থ মন ও সুস্থ হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে বড় ওষুধ।

×
  • CTVN