হলি-ফাক গল্পের কথা মনে আছে? বাংলা ওটিটি-তে এক সময় আলোড়ন ফেলেছিল এই গল্প। দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে ভাইফোঁটা দেওয়ার পরেও শেষেমেষ দাদার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় বোন। যদিও এই গল্প নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল সেই সময়, মূল্যবোধ বা কোথায় গিয়ে আমাদের থামতে হয়, সে নিয়ে প্রচুর আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু নেটিজেনদের একাংশে মতে, ভালোবাসা না দেখে বয়স, না দেখে কিছু। ভালোবাসা তো ভালোবাসাই হয়।
রিলের দুনিয়া থেকে ব্যাক টু সোজা বাস্তবের পর্দায়, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের। একই পাড়ায় বাড়ি ছেলে-মেয়েটির। দীর্ঘদিন ধরে পাড়া-প্রতিবেশীরা এটাই জানত ওরা দুজনেই ভাই বোন। এমনকি ১৫ বছর ধরে ছেলেটিকে রাখী পরিয়ে এসেছে নন্দিনী। হঠাৎ এহেন দাদাকে মালা পরিয়ে বিয়ে করে ফেলায় তাজব্ব দুই পরিবার সাথে প্রতিবেশীরাও। ঘটনাটি জানতে পেরে মেয়েকে মৃত ঘোষণা করে, রাগের মাথায় পারলৌকিক ক্রিয়া করে ফেলেন প্রয়াগরাজের এই পরিবারটি। মেয়েটির বাবার কথায়, এই ধরণের অনৈতিক কাজ যে করতে পারে সে তাঁর মেয়ে হতে পারে না।
নন্দিনী পান্ডে ও শাশ্বত গুপ্তা সম্পর্কে পাড়াতুতো ভাই-বোন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেন। নন্দিনীর পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দাদার মতোই মিশতেন শাশ্বত, তাঁর বাড়িতে যাতায়াতও ছিল। কিন্তু ঘূর্ণাক্ষরেও কেউ তাদের প্রেমের বিষয়টি টের পায়নি। আর এতেই আরও অবাক দুই পরিবার। কিন্তু নন্দিনীর বয়ান অবশ্য অন্য কথা বলছে। তাঁর কথায়, ওদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা প্রেমেরই ছিল।
একটি ভিডিও বার্তায় নন্দিনী আরও জানান, তাঁরা দুজনে সুখেই আছে। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন নানা মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে এসেছে, অসুস্থ হলেও ঠিক মত চিকিৎসাও করেনি তারা। ২১ শে সেপ্টেম্বর নন্দিনীর বাবা বিয়ের খবর পেলে, রাগে মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রতীকী পারলৌকিক ক্রিয়াও করেন। তিনি নন্দিনী ও শাশ্বতর সঙ্গে সব রকম যোগাযোগও শেষ করেন বলে জানিয়েছেন। নন্দিনীর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, শাশ্বত নন্দিনীকে সংসার জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নগদ দু লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নন্দিনী। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় সংসার করবে বলেই শাশ্বতর সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন। আর দু লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। সব মিলিয়ে দু-পক্ষের অভিযোগ আর প্রতি অভিযোগে উত্তাল দুই পরিবার। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশও। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনা সামনে আসতেই দ্বিধা বিভক্ত নেটিজেনরা। রাখী কেবল একটি সুতোর বন্ধন নয়, এটি যুগ যুগ ধরে বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে ভালোবাসার কোনো বাঁধা ধরা বয়স বা সামাজিক অনুশাসন থাকে না, এই আধুনিক ধারণার সঙ্গে যখন প্রাচীন সামাজিক রীতিনীতির সংঘাত বাঁধে, তখন সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে আপনার কী মনে হয়, সমাজের নির্ধারিত গণ্ডি মেনে চলা উচিত, নাকি ব্যক্তির নিজস্ব ভালোবাসার সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?