Calcutta Television Network

মির্জাপুরের বিবাহ সমস্যা

মির্জাপুরের বিবাহ সমস্যা
24 September 2026 • 05:32:52 pm

গ্রামের রাস্তার সঙ্গে কী বিয়ের সম্পর্ক যুক্ত হতে পারে অঙ্গাঙ্গি? সাধারণ ভাবে দু’টি বিষয় পৃথক বলেই মনে হয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলার দান্তি ও গৌরা ভিসেন গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এখন আর বিষয়টি আলাদা নয়। তাঁদের অভিযোগ, গ্রামের বেহাল রাস্তার কারণে বাইরের পরিবারগুলি এখানে তাঁদের পুত্র বা কন্যার বিবাহ দিতে একেবারেই ইচ্ছুক নয়। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, দান্তি থেকে গৌরা ভিসেনের মধ্যে যোগাযোগের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবহার্য। কোথাও পাথর বেরিয়ে রয়েছে, কোথাও আবার রাস্তা এতটাই দুর্গম যে গাড়ি নিয়ে চলাচল করাই দুস্কর। বর্ষা এলেই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে এই রাস্তা তৈরির জন্য প্রশাসনের কাছে বহু আবেদন নিবেদন জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান মেলেনি। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য খুব একটা বেশি নয়। খারাঞ্জা জলপ্রপাত থেকে দান্তির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে সেই সামান্য পথও পেরোতে স্থানীয়দের যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম ব্যয় হয়। অনেক সময় বিকল্প পথে ঘুরেও যেতে হয়। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বিরাট সমস্যা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে মূলত স্কুলপড়ুয়ারা। প্রতিদিন খারাপ রাস্তা পেরিয়ে তাদের স্কুলে যেতে হয়। কোনও বাসিন্দা অসুস্থ হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

জরুরি সময়ে এই সমস্যাই আরও বৃহৎ আকার নেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এখন এই রাস্তার প্রভাব নাকি পৌঁছে গিয়েছে বিবাহবাসরেও। গ্রামবাসীদের দাবি, কোনও পরিবার ছেলে বা মেয়ের জন্য পাত্রপাত্রী খোঁজার সময় গ্রামের নাম শুনে অনেকেই আর আগ্রহ দেখান না। কারণ বিয়ের পরে ওই পরিবারকে নিত্য এই রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ধীরজ মৌর্যের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা মেরামতের কথা বলা হলেও কখনো কাজ হয়নি। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা একাধিকবার অবস্থানে বসেছেন। তাঁর কথায়, গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রেও এখন এই রাস্তা বিস্তর বাধা সদৃশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, রাস্তা তৈরির কাজ আটকে থাকার পিছনে বন বিভাগের জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় বহু বছর ধরে রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প এগোয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই এই রাস্তার জন্য দাবিদাওয়া জানানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়েরা। রোহিত শুক্ল নামে আর এক বাসিন্দার বক্তব্য, গ্রামের প্রায় সকলেই পাকা ও মজবুত রাস্তা তৈরির দাবিতে সহমত। তাঁর দাবি, রাস্তার পাথুরে অংশ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত পথ ঘুরে আসতে হয়। ফলে দৈনন্দিন জীবন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রাস্তার দাবিতে আগেও প্রতিবাদ করেছেন গ্রামবাসীরা। এমনকি গত বছর ভোট বয়কটের পথেও হাঁটেন মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীলকুমার পাল জানিয়েছেন, ভোটের আগে রাস্তা ঠিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা নূন্যতম একটি স্বাভাবিক দাবি করছেন। নিরাপদে চলাচলের উপযোগী একটি পাকা রাস্তা। যে রাস্তা তৈরি হলে শুধু যাতায়াতের সমস্যাই কমবে না, পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া, রোগী এবং গ্রামের সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে বিয়ের মতো পারিবারিক বিষয়েও এই রাস্তার কারণে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মেঘ কেটে যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।